স্যার, সালাম। আমি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম এক সময়ে। ওই সময়ে কয়েকজন সম্মানীত ভিসি পেয়েছিলাম। তার মধ্যে ছিলেন ফজলুল হালিম চৌধুরি এবং এমাজউদ্দিন আহমেদ। তখন আমরা এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিনি। অনেক পুলিশী অভিযান হয়েছে। তখন ভিসি বা শিক্ষকরা ছাত্রদের সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তারা ছিলেন অভিভাবকের মতোই।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলছি যে, আজ সেই অবস্থা আর নেই। আপনি যখন কোটার আন্দোলন তুঙ্গে তখন ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সরকারকে দাবি বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছেন। এখন ওই কোটা আন্দোলনকারিরা যখন আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিগৃহ হলো তখন আপনি তাদের রক্ষা দূরে থাক, উল্টো এই আন্দোলনে আপনি জঙ্গী সম্পৃত্ততা খুঁজে পেলেন। নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলেন না, এখন পেটোয়া বাহিনী ও পুলিশের হাতে নিগৃত ছাত্রদের জঙ্গী আখ্যায়িত করে আরো বিপদে ফেলে দিলেন। একজন ভিসিতো অভিভাবকেরও অভিভাবক। তার এমন দ্বিমুখী আচরণ কি হতে পারে? এর আগে ছাত্রলীগ নেত্রী এশার বিপক্ষে কথা বলে পরে আবার তার পক্ষ নিলেন।
আপনি বললেন, ১৮ বছরের উপরে যার বয়স তার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। এখানে আপনি পশ্চিমা দেশের রীতি টেনে আনলেন। কিন্তু ওই সব দেশের আইন ও বিচারের যে সার্বজনীন নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা, এখানে কি সেটা আছে? আর আপনার যেখানে কর্তৃত্ব আছে সেখানে আপনি কেন এই দায়িত্ব অন্যকে দিচ্ছেন?
মনে হচ্ছে আপনি যখন যেখানে শক্তি দেখছেন, সেখানে সেই অনুযায়ী কথা বলছেন। তখন কোটার পক্ষে জোয়ার দেখে আপনি কথা বলেছেন। এখন পেশীশক্তির দাপট দেখে আপনিও কথা বা অবস্থান ঘুরিয়ে ফেলেছেন। এর আগেও আপনি নিজের দপ্তর থেকে উদ্ধার পাবার জন্য পুলিশকে না ডেকে ছাত্রলীগকে ডেকে এক অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন ।
এসব কি ঠিক স্যার? আপনি আপনার পূর্বসূরীদের কথা স্মরণ করেন। এমনকি আপনার ঠিক আগে ভিসি হিসাবে ড. আরেফিন সিদ্দিকও কতো সুন্দরভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে গেছেন। এমন বিচ্ছৃঙ্খলা কখনো দেখি নাই। এখন কি হচ্ছে এসব? এর শেষ কোথায়? কেন আপনি ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকতে পারছেন না? আপনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সেরা ভিসি হবার মুকুটটি পরতে চাইছেন না?

লেখক : মোস্তফা ফিরোজ
বাংলাভিশন বার্তা প্রধান
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত