এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এ জন্য গড়েছেন ’নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সংগঠন। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও তিনি।
গত রবিবার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত হয় দুই শিক্ষার্থী। যার প্রতিবাদে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে তা নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন প্রতিনিধির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
: শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন আপনি কিভাবে দেখছেন?
ইলিয়াস কাঞ্চন: অনেক পজিটিভ। কারণ, যা আমি করতে পারিনি, তারা তা করে দেখিয়েছে। আমি যে দাবিগুলো ২৫ বছর ধরে করে আসছিলাম, সেই দাবিগুলো সরকার যদি বাস্তবায়ন করতো তাহলে এত জীবন সহজে যেত না। সড়ক একটি সুষ্ঠু নীতির ব্যবস্থাপনার মধ্যে চলে আসতো। সেটা হয়নি বিধায় আজকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে।
: আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা কি সফল হবে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: সফলতার জন্য অনেক সময় ধাক্কা দিতে হয়। মানুষ যদি ঘুমিয়ে থাকে তখন তাকে ধাক্কা দিতে হয়। আরও একটি জিনিস হল, কেউ যদি রাস্তা আটকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন কিন্তু তাকে সরিয়ে রাস্তা করে নিতে হয়। এরা (শিক্ষার্থী) কিন্তু ধাক্কা দিয়েছে। পুরোপুরি না হলেও কিছুটা সফল হবে তারা। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নিজেই কিছু দায়িত্ব নিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। সেগুলো যদি মানা হয় তাহলে অনেকটাই বাস্তবায়িত হবে। আমরা তার সুফল ভোগ করতে পারবো।
: গত দু’দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের মত লাইসেন্স যাচাই করছে। মন্ত্রী, এমপি, পুলিশ এমনকি সাংবাদিকসহ অনেকেই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমাদের দেশে উদাহরণ তৈরি করা হয় না। ভাল কাজের উদাহরণ হয় না। যে সমস্থ মানুষগুলো আমাদেরকে দেখে শিখবে, আমাদের দেখে অন্তত বুঝবে যে, আইন মানা উচিৎ; তাই আমাদের নিজেদেরও আইন মানা দরকার, এই সংস্কৃতি তৈরি হয়নি। যারা আইন প্রয়োগ করে এবং প্রণয়ন করে, দেখা যায় যে, তারাই আইন অমান্য করে। নিজের বেলায় অনেকেই সঠিক জিনিসটা করে না। যেটা ছেলে-মেয়েরা আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছি, আপনি একজন পুলিশ, একজন সাংবাদিক, আপনার লাইসেন্স নেই কেন? আপনার ড্রাইভারের কেন লাইসেন্স নেই? তারা মন্ত্রীকেও আটকিয়েছে।
তারা বলেছে, আপনি স্বাধীন দেশের মন্ত্রী হয়েছেন। সে দেশের মন্ত্রী হয়ে কিভাবে আইন অমান্য করছেন? এই যে লজ্জা, এই লজ্জা যদি অনুধাবন করতে পারি এবং আমাদের যদি লজ্জা থেকে থাকে তাহলে সেই লজ্জা থেকেই অবশ্যই মানুষগুলো ঠিক হবে।
: শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলার থাকে...
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমরা অতীতে অনেক আন্দোলন দেখেছি। যেমন- গণজাগরণ মঞ্চ ও কোটা সংস্কার আন্দোলন, এই সমস্থ আন্দোলনগুলোকে ভিন্নখাতে নিয়ে গেছে স্বার্থন্বেষী মহল। এই আন্দোলনের মাঝে যেন ওই রকম কিছু ঢুকে না যায়। এর জন্য আমার সাজেশন, তারা যেন কোন গাড়ি ভাঙচুর না করে।
কারণ, যদি গাড়ি ভাঙচুর করে, এখানে হয়তো একটা সুযোগ নেবে স্বার্থন্বেষী মহল। তারা যদি একটা গাড়ি ভাঙে, দেখা গেল, স্বার্থন্বেষী মহল ১৫ বা ২০টা গাড়ি ভেঙ্গে তাদের বদনাম করবে। এই বদনাম থেকে তারা যেন দূরে থাকে, এজন্য তারা যেন সতর্কতা অবলম্বন করে।
বিডি২৪লাইভ