শুধু পুলিশকেই গালি দেন কেন : মফিজুর রহমান নিরাপদ সড়ক বাংলাদেশে কী করে আসবে ভাইয়া? ঢাকা শহরের মোট আয়তনের ন্যুনতম ২৫ ভাগ জায়গায় দরকার ছিল রাস্তার জন্য। আছে সাত শতাংশেরও কম।
রাস্তার জন্য ঢাকাবাসী জায়গা ছাড়তে নারাজ। আবার নিরাপদ সড়কও চায়। অন্যদিকে আমাদের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, ঠিকাদারেরা যতটা সম্ভব সস্তায় রাস্তার কাজ সম্পন্ন করেন, কিছু জনপ্রতিনিধি ও এই উৎসবে অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করেন। বাজেট এর কিয়দংশ চরম হেলাফেলায় জনগণের সেবায় রাস্তায় পতিত হয়।
এই অতি সংকীর্ণ রাস্তায় যত আইনই প্রয়োগ করেন না কেন অতি প্রয়োজনে অল্প বাঙালিকেই আইন মানাতে পারবেন। হেলপার, ড্রাইভারদের কাছ থেকে অতি উচ্চ সেবা আশা করেন, অথচ আপনি জানেন ওরা জন্ম নিয়েছে বস্তিতে, ফুটপাতে, রাস্তায়; বড় হয়েছে বা হচ্ছে ফুটপাতে, রাস্তায় লাথি, চড় খেয়ে?
ওদের দায়িত্ব কেউ নেয়নি আর নেবে না। ওদের কাছ থেকে ভালো সেবা আশা করা অতি উচ্চাশা। ওদের বাদ দিলে ঢাকা শহরের গণপরিবহন চালানোর লোক খুঁজে পাবেন না হলফ করে বলছি।
ওদের অধিকাংশই ২০ বছরের নিচে। ট্রাফিক আইন জানে না। সারাদেশে এই একই অবস্থা। আর ট্রাফিক পুলিশের কথা বলবেন। তাদের জীবনের বিনিময়ে ঢাকা শহর এখনো সচল আছে। ট্রাফিক কনস্টেবলদের বেতন মাসে এক কোটি টাকা দিলেও তাদের রাস্তায় করা কষ্টের সমান হবে না।
কারণ, ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক ডিউটি করতে গিয়ে যে সাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়তে হয় তা টাকার অংকে পরিমাপ করা অসম্ভব। কনস্টেবল, সার্জেন্ট, টিআইদের কারও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ মেনে নিয়েই একথা বলছি।
বিআরটিএর এর দেয়া লাইসেন্স অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ। সিটি করপোরেশন, বিআরটিসি, সড়ক ও জনপথ, সড়ক ও সেতু বিভাগ যাদের দায়িত্ব ছিল জনবহুল মোড়গুলোতে অধিক পরিমাণে ওভারপাস, আন্ডারপাস, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা, ভাঙা, উঁচুনিচু রাস্তা মেরামত করা, সরকারি যানবাহনগুলো চলনসই মানে আনা। সেগুলো তারা করেনি।
উদাহরণস্বরূপ বলব, শাহবাগ ক্রসিংয়ে চতুর্মুখী ওভারপাস কেন আজও দেয়া হয়নি? কেন এয়ারপোর্ট ক্রসিংয়ে চার ফুট চওড়া একটা মাত্র ফুটওভার ব্রিজ দেয়া হলো যেখানে দরকার ছিল কমপক্ষে ২০ ফুট চওড়া দুটি ফুটওভারব্রিজ? আরও দরকার ছিল ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস, ওভারপাস।
সেগুলোর জন্য সিটি করপোরেশন, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেছেন কখনও? আরও অনেক বিষয় আছে, এখানে তা লিখে বোঝানো কঠিন।
শুধু এটুকু বলতে চাই, নিরাপদ সড়কের জন্য এ জাতি দায়ী করছে মূলত পুলিশ বিভাগকে, যাদের দায় এখানে একেবারেই নগন্য, যারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করবার সর্বশেষ এবং সর্বনগণ্য স্টেকহোল্ডার। অথচ আমার জাতি তাকেই গালি দিয়ে তৃপ্তি পায় যার দায় সবচেয়ে কম কিন্তু কষ্ট সর্বাধিক এবং নিরন্তর।
কারণ একটাই, নিরাপদ সড়কের জন্য যত বিভাগ কাজ করে তন্মধ্যে একমাত্র পুলিশই সর্বদা কর্মরত অবস্থায় রাস্তায় ভিজিবল থাকে। অন্য কেউ তো আর পুলিশের মতো এত প্রকশ্যে থাকে না।
আজকে দুই হাজার ছাত্র মাত্র দুই কিলোমিটার রাস্তা সুনির্দিষ্ট লেনে নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছে। আর লোকে বলছে তাহলে পুলিশ কেন পারছে না। পুলিশ কীভাবে পারবে? যেখানে ২০০০ ছাত্র কাজ করেছে মাত্র তিন/চার ঘণ্টা সেখানে পুলিশ কাজ করে ২০ জনের ও কম। টানা আট ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে।
আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, পুলিশের এই আট ঘণ্টা সাধারণ জনতা দাঁড়াতে পারবে না। আর আজ সবাইকে যেভাবে নাস্তানুবাদ ছাত্ররা করতে পারছে, পুলিশ সেটা পারে না। এই জনতাই কালই তার পরিচিত, আত্মীয় পুলিশেকে ফোন দেবে সার্জেন্ট যাতে মামলা না দেয় তার তদবিরের জন্য।
উল্টো পথের কোন বাঙালিকে আটকালে পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রেই হেনস্থা হতে হয় কারণ পাবলিক যে বড় ক্ষমতাবান। লেখক: এএসপি, পুলিশ বাহিনীdhakatimes24