শহীদুল কেন সবুরের একাত্তরের রাজাকারির দায় নেবে: নিঝুম ‍মজুমদার রবিন আকরাম : গতকাল ধরে বিখ্যাত ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম বিষয়ক তথ্য, সে তথ্যের বাচ্চাদের কিংবা তাদের নাতিপুতিদের দেখলাম। প্রশ্ন আসতেই পারে কারা কিংবা কি সেই তথ্য, কে সেই তথ্যের বাচ্চা এবং কি সেই তথ্যের নাতি-পুতি?
আসুন একটু জেনে নেই।
প্রথমে আমি ফেসবুকের বরাতে জানতে পারলাম গ্রেফতার হওয়া বিখ্যাত ফটোগ্রাফার শহীদুল সাহেব মোনায়েম খানের ভাতিজা। একটু পরেই ভাতিজা পরিবর্তিত হয়ে জানা গেলো তিনি ভাতিজা নন আসলে নাতি।
দুপুর গড়াতেই এই তথ্য পরবর্তিত হয়ে আমি জানলাম উনি রাজাকার সবুর খানের ভাতিজা। তারও কিছুক্ষন পর জানলাম আসলে তিনি সবুর খানের ভাতিজা নন তিনি আসলে সবুর খানের ভাগ্নে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে তথ্য পেলাম শহীদুল আলম এর স্ত্রী রেহনুমা খান এবং এই রেহনুমা খানের মামা সবুর খান। সেই সূত্রে শহীদুল খান হচ্ছেন সবুরের ভাগ্নে। এটাও ফেসবুকেই পেয়েছি সেই অভিযোগকারীদের কাছ থেকে।
চাচা, নাতি, ভাগ্নে,ভাতিজা, সকল সম্পর্কযুক্ত বাঁধা পেরিয়ে আমি সকাল বেলা আমার ফেসবুক খুলেই এক ভদ্রলোকের একটি মন্তব্য আমার ফেসবুকে পেয়েছি যিনি আমাকে "বরাহ শাবক" বা "কুত্তার বাচ্চা" বলে অভিহিত করেছেন।
আমি সঙ্গত কারনেই এই ভদ্রলোকের নাম প্রকাশ করছিনা। তাঁকে নাম ধরে বলে বিব্রত না করতে চাইবার কারনেই ধরে নিতে পারেন।
তো আমাকে কুত্তার বাচ্চা সম্ভোধন করে তিনি যা বলেছেন বা যে অভিযোগে তিনি শহীদুল আলমের বিপক্ষে রয়েছেন সেটির সার সংক্ষেপ আপনাদের বলছি-
(১) শহীদুল আলম ফরহাদ মজাহারের উপদেষ্টা সে কারনে তিনি ঘৃণা করেন
(২) শাহবাগ আন্দোলনের তরুনদের নাস্তিক ট্যাগ দিয়েছেন শহীদুল সাহেব সে কারনে তিনি শহীদুল সাহবেকে ঘৃণা করেন
(৩) যুদ্ধাপরাধীর বন্ধু ডেভিড বার্গম্যানের বন্ধু, সে কারনে তিনি শহীদুল সাহেবকে ঘৃণা করেন।
(৪) জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে (এটি নাকি করা হয়েছে তাঁর বানানো ফিল্মে), সে কারনে ঘৃণা করেন।
(৫) ডেভিড বার্গম্যানের পক্ষে যে ৫০ জন বিবৃতি দিয়েছিলো তার মধ্যে শহীদুল হকের স্ত্রী একজন। এই কারনে তিনি শহীদুল হককে ঘৃণা করেন।
(৬) রেহনুমা খান মানে, শহীদুল সাহেবের স্ত্রী’র মামা হচ্ছে রাজাকার খান এ সবুর। সে কারনে শহীদুল আলমকে ঘৃণা করেন।
এই যে উপরে আমার বলা কথন অনুযায়ী আর এই নানাবিধ ব্যাক্তি বর্গের দাবে-দাওয়া ও কারন, এর কোনোটিই কি আসলে যুক্তি বা তর্কের দিকে যায় নাকি খামাখাই হাওয়ায় তলোয়ার চালানো হচ্ছে কেবল?
এখন পর্যন্ত দাবী ওয়ালারা নিশ্চিত-ই হতে পারেন নি যে শহীদুল আলম কার নাতি,ভাতিজা,ভাগ্নি বা চাচা? বুঝতেই পারছেন তাদের দাবী আর বক্তব্যের গভীরতা।
আপনাদের আমি জানিয়ে রাখি যে, খান এ সবুর মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালের খুব সম্ভবত ৭-ই ডিসেম্বর। সেই পার্টিকুলার দিনের পত্রিকা আমার কাছে রয়েছে। ফলে কেউ দেখতে চাইলে আমি দেখাতে পারব। (চাহিলে মাত্র-ই পাইবেন)
তো বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমতার আওতায় মুক্তি পায় খান এ সবুর এর মত জল্লাদ রাজাকার। প্রখ্যাত লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর "ইতিহাসের রক্তপলাশ" গ্রন্থের মাধ্যমে আমি জানতে পারি যে মুক্তি পরব্ররতী সবুরের চিকিৎসার ভারও নেয় বঙ্গবন্ধু এবং তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগও দেয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এত প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির পরেও, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেও ৭৩ এর সাধারণ ক্ষমায় সবুরের মুক্তি আইনীভাবে হতেই পারেনা কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে সেটি হয়েছে। কেননা সে সময় সবুরকে আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেনি সরকার।
এই যে এত বড় রাজাকারকে ধরে ছেড়ে দেয়া হোলো চার্জ না গঠন করে, এই যে তাকে নিরাপদে বের করে দেয়া হলো, সেটি নিয়ে কোনো ভাষ্য রয়েছে কি?
তো এত বড় রাজাকার সম্রাটের বিরুদ্ধে কেন চার্জ আনা হয়নি? কেন তার বিচার হয়নি? এই প্রশ্ন আমি এর আগেও করেছি এবং ফেসবুকে লিখেছি।
আজ পর্যন্ত আপনারা কি কোনোদিন শুনেছেন যে এটি নিয়ে কোনো আওয়ামীলীগের কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন? তাঁরা এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন?
উত্তর হচ্ছে,না, শোনেন নি।
১৯৮২ সালের ২৫ শে জানুয়ারী সবুর মারা গেলে এই সবুরকে জাতীয় নেতার সম্মান দিয়ে এরশাদ তাকে সমাহিত করে আজকের আসাদ গেটের সামনে আড়ং এর সামনে জাতীয় কবস্থানে। আপনারা আসাদ গেট পেরিয়ে, মানিক মিয়া এভিনিউর দিকে যেতে হাতের বামে যে ঝোপের মত, টাইলস ওয়ালা একটা কবর দেখতে পান, জেনে রাখেন এটাই রাজাকার খান এ সবুরের কবর।
আজ পর্যন্ত কোনো সরকার এই কবর সরায় নি।
এই যে রাজাকার সবুরকে জাতীয় নেতার সম্মান দিলো এরশাদ সেই এরশাদ-ই যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী্র বিশেষ দূত হলেন তখন কি কেউ প্রশ্ন তুলেছিলো যে একজন রাজাকারের এপোলোজিস্টকে আপনি কেন বিশেষ দূত বানালেন?
উত্তর হচ্ছে, না, কেউ প্রশ্ন তোলেনি।
এই চেতনাবাজেরা এখন প্রশ্ন তোলে শহীদুল আলম এর ভাইগ্না কিংবা ওর ভাতিজা। মানে, "উত্তর পাড়ায় বিয়াইছে গাই, সেই সূত্রে খালাত ভাই"
চিন্তা করে দেখুন ঘৃণা করবার জন্য এই হারামখোর গুলো কি করে লতায় পাতায় সম্পর্ক তৈরী করছে। এক লোকের বাবার, ভাইয়ের তালইয়ের শালার খালাত ভাইয়ের দেবরের মামা রাজাকার, সুতরাং সেই লোকও রাজাকার।
এই যে এত সম্পর্ক খুঁজে খুঁজে হয়রান হয় হাড়মাদ গুলো, এগুলো কিন্তু একবারো বলেনা আমাদের সংস্থাপন মন্ত্রী মোশাররফের কথা।
তার পিতা যে শান্তি কমিটির জার্সি পরে একাত্তরে দালালী করেছিলো, সেটি নিয়ে একটু রা বা কথন কিংবা প্রতিবাদ কি শুনেছেন এদের মুখে? কথা বলতে শুনেছেন আপনারা?
উত্তর হচ্ছে, না। শোনেন নি।
শেখ সেলিম যে তার ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের বিয়ে দিলো রাজাকার নুলা মুসার মেয়ের সাথে, এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো এই চেতনাজীবিরা?
উত্তর হচ্ছে, না তোলেনি।
কিন্তু লক্ষ্য করে দেখুন শহীদুল আলম কিভাবে হাগলো, কিভাবে কথা বল্লো এর প্রতিটিই এদের রাডারে ধরে প্রচার করছে। বাংলা প্রবাদে যাকে বলে, বজ্র আঁটুনি ফষ্কা গেরো। মানে টাইট পাহাড়া দিয়ে প্যান্টে বেঁধেছেন বেল্ট কিন্তু আপনার পোস্ট অফিস খোলা। এই হলো ঘটনা।
উপরে এরা যা বলছে বা বলেছে এগুলো সত্য হলেও কথা ছিলো। আজ আমার ফেসবুক বন্ধু সালেকিন ভাই ফেসবুকে লিখেছিলেন যে শাহবাগ আন্দোলনের সময় যখন ব্লগাররা খুন হচ্ছিলেন ঠিক তখন শহীদুল আলম বুকে ব্লগার লেখা টি শার্ট পরে ঘুরেছেন প্রকাশ্যে প্রতিবাদ হিসেবে।
এই লোকটিকে মজাহারের ভাবশিষ্য বানানো, তাঁর স্ত্রীর বিবৃতির কারনে তাঁকে ধরে দোষী বানানো, এসব সব কিছুই হচ্ছে মধ্যযুগীয় চিন্তা ভাবনার প্রভাব থেকে। যাকে আমরা খাঁটি বাংলায় বলি ইতরের মত কাজ কাম।
এই ইতরগুলোর অভিযোগ একটাও কি এভিডেন্স দিয়ে সাপোর্টেড? এগুলোর কোনটি কি তারা প্রমাণ করে দেখাতে পারবে যে এর ফলে শহীদুল হকও একজন রাজাকার?
আমরা যদি রাজাকার সবুরকে তর্কের খাতিরে শহীদুল হকের তালই বা মামা শ্বশুর ধরেও নেই , তাতেও কি এসে যায়?
সবুরের দায় শহীদুল কেন নেবে? শহীদুল কেন সবুরের একাত্তরের রাজাকারির দায় নেবে?
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের বাবা নুরু রাজাকার লতায় পাতায় বঙ্গবন্ধুর ফুফাত ভাই বলে আমি শুনেছিলাম। যদিও আমি নিশ্চিত নই। যদি হয়েও থাকে তাহলে এই দায় কি নেত্রী শেখ হাসিনা নেবেন নাকি জাতির পিতা নেবেন?
এই যে যেমন ধরেন আজকে সোহেল তাজ একটা স্ট্যাটাস দিলো। আমি দেখলাম অনেক আওয়ামী সমর্থক সোহেল তাজকে গালাগাল করছেন। তাঁর বাবাকে বেঈমান বলছেন এবং বলছেন "বেঈমান পূত্র তো বেঈমানি করবেই"
চিন্তা করা যায়? এদের পেটে তাজুদ্দিন আহমেদকে নিয়েও কি লেভেলের ঘৃণা কাজ করে?
এইসব কুত্তার বাচ্চাদের নাক টিপ দিলে এখনও ঝর ঝর করে দুধ পড়ে কিংবা এখনো জন্মের পরের যে পেটের নাড়ী, সেটাও শুকোয় নি। এই আবাল চ্যাটের বালগুলো এখন সোহেল তাজকে ডাকে বেঈমানের বাচ্চা আর শহীদুল আলমকে ডাকে রাজাকারের ভাগ্নে অথবা ভাতিজা।
এগুলোকে কেজি দরে যদি কটকটি ওয়ালার কাছে বেচেও দেই তাহলে কটকটি আলা এগুলোকে নেবে কিনা সন্দেহ।
যাদের গায়ের মুল্য চার আনা নেই তারা যখন দেশের সম্পদদের নিয়ে কথা বলে, তখন কি করা উচিৎ জানেন?
তখন এদের পাছা বরাবর কয়েক টনি ওজনের লাথি মারা উচিৎ। কেননা মাথা গরম হলে মাথায় পানি ঢালতে হয় আর পাছা গরম হলে মারতে হয় লাথি।
যে ভুত লাথি দিয়ে তাড়াতে হয় সে ভূতকে কথা দিয়ে কি তাড়ানো যায়?
(লেখক ও ব্লগার নিঝুম ‍মজুমদার)
সূত্র:amadershomoy