কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছিলো, তারা কখনোই কোটা পদ্ধতির বাতিল চায়নি। আন্দোলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে এক বক্তৃতায় ঘোষনা দিলেন "কোটাই থাকবে না"।
এর কিছুদিন পরে আবার বললেন, "না কোটা থাকবে; কারন, হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছিল। সে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট হুকুম দিল, এই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে, না হলে পদ শূন্য থাকবে। হাইকোর্টের রায় তিনি অবমাননা করতে পারেন না।"
এটা উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক, যে "মুক্তিযোদ্ধা কোটা"র অর্থ হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পোষ্য কোটা। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা এখন বৃদ্ধ এবং কারোই চাকরির বয়স নেই।
তাহলে তিনি কেন বলেছিলেন, "কোটা থাকবে না"? এর উত্তরে তিনি বলেছিলেন, "আন্দোলনের অরাজক পরিস্থিতি দেখে আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে কোটা থাকবে না।"
এরপরে, সরকার একটা কমিটি করে দেয় ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে এবং ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বলেন। অনেকবার সময় বৃদ্ধির পরে কমিটি বলে, সকল কোটাই বাতিল করে দেয়া উচিত।
কমিটির পরামর্শ অনুসারে মন্ত্রীপরিষদ সভায় সকল কোটা বাতিল করা হয়। যদিও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, জাতীয় সংখ্যালঘুদের জন্য কেউই কোটা বাতিলের দাবী তোলেনি, বরং তা সংরক্ষণের কথা বলেছিল।
​​
এরপরে প্রধানমন্ত্রী আবারো বলেন, "যদি কেউ কোটা চায়, তাহলে এখন কোটা চাই বলে আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলন যদি ভালোভাবে করতে পারে, তখন ভেবেচিন্তে দেখা হবে কী করা যায়? আন্দোলন ছাড়া কোটা দেওয়া হবে না।"
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরে রাজধানীর শাহবাগে ব্যস্ত সড়কে গুটি কয় মানুষ রাস্তা বন্ধ করে বসে পড়ে। এদের মোট সংখ্যা সাকুল্যে ২৮ জন। যেই পুলিশ অনুমতি ছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক কর্মিদের কোন কর্মসূচীই করতে দেয়না সেখানে এই ২৮ জনের রাস্তা বন্ধ করে তথাকথিত প্রতিবাদে বাধা দেয়া তো দূরে থাক, নিজেরাই ব্যারিকেড দিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।
এই আন্দোলনকে সরকার সমর্থিত আন্দোলন বলা যাবে কি?
যদিও আমি মনে করি প্রতিবাদকারী যদি একজনও হয়, তাকেও প্রতিবাদ করতে দেয়া উচিত। কিন্তু রাষ্ট্র কেন কাউকে জামাই আদরে আন্দোলন করতে দেয় আরো কারো জন্য বুলেট বরাদ্দ করে, সেই প্রশ্ন আমাদের অবশ্যই করা উচিৎ।