একেই বলে লাউগাছের শিকড় কেটে উপরের লতায় পানি ঢালা। প্রশ্ন হলো, এই পানি পান করবে কারা? কার বা কাদের কল্যাণে এই ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে?
১৯৯৯ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছি। ১৯ বছরে পেশাদারিত্বের ঝুলিতে জমেছে অনিশ্চয়তা, তিক্ততা আর হয়রানির শত ঘটনা। আগের দিন অফিস করে পরদিন তালা ঝুলতে দেখেছি। কারণ ছাড়াই চাকরিঢ্যুত হয়েছি। মাসের পর মাস বেতন পাইনি। বকেয়া পাওনা চাইতে গিয়ে অপমান জুটেছে একাধিকবার। কর্মহীন হয়েও বহু দিন কাটিয়েছি। কই, এসব বিপর্যয়ে ২০ টাকা সাহায্য পেলাম না কোথাও।
সাংবাদিকদের কিছু সংগঠন আছে। সেখানে কিছু নেতাও আছেন। আমিও কয়েকটি সংগঠনের সদস্য। আমার ভোটেই নেতা নির্বাচিত হন। নেতাদের হাসিমুখগুলো দেখি কেবল ভোটাভুটির আগে। বকেয়া বেতন, ঝুলন্ত তালা আর চাকরিচ্যুতির অভিযোগ নিয়ে কয়েকবারই শরণাপন্ন হয়েছি কথিত নেতাদের। সংকট জানার পর অস্বাভাবিক গম্ভীর হয়ে যায় তাদের চেহারা। থমথমে কণ্ঠে শুনি, দেখি কি করা যায় অমুক দিন কল দিও। এরপর অমুক দিন পেরিয়ে তমুক দিন চলে যায়। নেতা আর আমার ফোন ধরেন না। ম্যাসেজ দিলেও নো রিপ্লাই। ওমা পরে দেখি আমার নম্বরই ব্লক।
ফিরে আসি আসল প্রসঙ্গে। ২০ কোটি টাকায় কি হবে? পেশাদার সাংবাদিক নাকি পোষাদার সাংবাদিক, কাদের কল্যাণ করবে এই টাকা। সরকারি অনুদানের টাকা সম্ভবত সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে বরাদ্দ হয়। এখন বুঝে নিন, এ টাকা যাবে কোন গোয়ালে? আর এ অনুদানে নেতারা তো বিগলিত হবেনই, ভাগাভাগির হিসাবও নিশ্চিত শুরু হয়ে গেছে। ডিজিটাল আইন দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার খোলা পথে দেয়াল তুলে দেয়া হলো, সেদিকে নেতাদের নজর দেওয়ার সময় কই।
একটা নিশ্চয়তা আপনাকে দিচ্ছি। খেটেখুটে ঝুঁকি নিয়ে একটা দুর্দান্ত অ্যাসাইনমেন্ট করলেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে আপনার নামে মামলা হলো। কাউকে পাশে পাবেন না। ক্ষতি যা হওয়ার আপনার আর আপনার পরিবারেরই হবে। (ফেসবুক স্ট্যাটাস)
পূর্বপশ্চিম ডটনিউজ