তাসরিক হাসান : অনেকগুলো জরুরি কাজ পেন্ডিং রেখে এই লেখাটা হাতে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছি! প্রসঙ্গ কি? \\\"মির্জা ফখরুল মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণ কি?\\\"
প্রসঙ্গে যাবার আগে একটা কথা বলে রাখাটা খুব জরুরি। আওয়ামি লিগের প্রায়োরাটাইজড একটা মিশন হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলের গর্বের জায়গাগুলোকে বিতর্কিত করে তোলা। ফর এক্সাম্পলঃ বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা হাসিনার তুলনায় অনেক বেশি, বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্ব থেকে পশ্চিমে খালেদা যেখানেই দাঁড়িয়েছেন ভূমিধ্বস জয় পেয়ে এসেছেন, অন্যদিকে হাসিনা পাড়ার নেতার কাছেও গো হারা হেরেছেন। এখন হাসিনার সম্মান বাচানোর উপায় কি? শুরু হোক খালেদা জিয়ারে নিচে নামানো! একই লিনিয়েজে এখন মির্জা ফখরুল পড়েছেন। মির্জা ফখরুল বাংলাদেশে এমন একজন ব্যক্তিত্ব যে সততা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে একটা ইতিহাস তৈরি করেছেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দলের সম-পদধারী ব্যক্তিকে সার্কাসের ক্লাউনের চেয়ে কম কিছু মনে হয় না। আর মির্জা ফখরুলের দেয়া সামান্য একটা ম্যাসেজ সব স্পনসর পোস্ট ছাপিয়ে লোকের দোরগোড়ায় নিখরচায় চলে যাচ্ছে, এটাকে একভাবে তো রোধ করতে হবে! সেই পুরান মেকানিজম, কন্ট্রোভার্সি মেশিন চালু কর!
১। \\\"মির্জা ফখরুল মুক্তিযোদ্ধা তার প্রমাণ কি?\\\"
>মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ নামে একটা জিনিস যে আছে সেটা তো চেতনাৎসিদের মুখস্ত থাকার কথা। সেই আর্কাইভ থেকে মির্জা ফখরুলের নামটা নিজে কষ্ট করে খুঁজে নিয়েন! আমি কেবল ২০০৫ সালে অফিশিয়াল গ্যাজেটে মির্জা ফখরুলের নামের স্ক্রিনশটটা দিলাম!
২। \\\"মির্জা ফখরুলের বাবা ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে।\\\"
> হতে পারে! বাপ যদি পাকিস্তানের পক্ষে মত দেয় আর অন্যদিকে ছেলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হয়েও এই পাপ থেকে মুক্তি না পায় তাহলে এই দেশের তিন চতুর্থাংশ লোকই রাজাকার। কারণ এরকম ঘটনা অহরহ হয়েছে একই পরিবারের একেক সদস্য একেক রকম ভূমিকা নিয়েছে, এরকম একজাম্পল আছে ভুরি ভুরি, বাবা কট্টর ধার্মিক ছেলে হয়েছে নাস্তিক, বাবা করে ইসলামী পার্টি, ছেলে করে বাম রাজনীতি। মির্জা ফখরুল ছিলেন তার বাবার উলটো, তিনি করতেন বাম রাজনীতি, ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় নেতা। আর মির্জা ফখরুলের চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের \\\"ডাইরেক্টরেট অফ ইয়ুথ ক্যাম্পের\\\" পরিচালক। শুধুমাত্র বাবার অবস্থানের জন্য ছেলের গৌরবও ছিনিয়ে নিতে হবে? অবশ্য এই ইস্যুগুলো সাকা চৌধুরীর খালাতো-ফুফাতো ভাই সাবের চৌধুরী-সালমান এফ রহমান ভালো করে ব্যখ্যা করতে পারবেন, কিংবা শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলও। :)
৩। \\\"মির্জা ফখরুলরে তো কোনদিন শুনি নাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়া দুইটা গল্প বলতে?\\\"
> যেই দেশে একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা (সাদেক হোসেন খোকা) থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় রেডিওতে গল্পকথক ( আনিসুল হক) বড় মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায় সেই দেশেই কেবল এই ধরনের বুদ্ধিহীন প্রশ্ন আসতে পারে। মুক্তিযুদ্ধরে নিয়ে নিজের ইচ্ছেমতন ব্যবসা করতে করতে এরা ভুলেই গেছে আবেগের শুদ্ধতা কি জিনিস! তারপরেও যাদের ঈমান বলতে কিছু নাই, তাদের জন্য মির্জা ফখরুলের নিজের মুখে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শোনার লিঙ্ক দিলাম। নবনীতার সাথে আলাপের ৫.২৫ মিনিট থেকে দেখলেই তার নিজের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধ বয়ান শুনতে পারবেন!
ভিডিওটি নীচে সম্বলিত করা হলো
৪। \\\"এইসব দলিলপত্রে প্রচুর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকে, এর বাইরে আর কি প্রমাণ আছে ফখরুল যে মুক্তিযোদ্ধা?\\\"
> আওয়ামি লিগের এই আমলেই বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে প্রতি জেলাভিত্তিক লোকজ সংস্কৃতির উপর বই প্রকাশ হয়। \\\"বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-ঠাকুরগাও\\\" শীর্ষক বইয়ের দুটো পাতা ইমেজে তুলে দিলাম। \\\" ২৯ শে মার্চ চারদিকের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।...ইপিআরের অস্ত্রাগারের সমস্ত অস্ত্র একদিনের মধ্যে চলে এলো সাধারণ মানুষের হাতে। বিওপিতে কর্মরত অবাঙ্গালি ইপিআরদের নিরস্ত্র ও হত্যা করা হয়। এ ক্ষেত্রে মির্জা আলমগীর আর মির্জা বাবলুর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।\\\" বইয়ের আরেক অংশে ২ এপ্রিল সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে পালিয়ে আসা বাঙালি ক্যপ্টেন আশরাফ আর ক্যাপ্টেন আনোয়ার যোগ দেন দিনাজপুর উইংয়ের সাথে। আর অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্যাপ্টেন আশরাফের সাথে দেখা করে ঠাকুরগাঁও উইং আর দিনাজপুরের সমন্বয়ের জন্য কথা বলতে দিনাজপুর যান। এবার কি কিছু ঈমান আসে হে চেতনাৎসি?
আসল উত্তরটা এখন দিই! ওই ভিডিওতে মির্জা ফখরুল একবারো নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন নাই। পুরো ভিডীওতে একবারো \\\"আমি\\\" শব্দটা উচ্চারণ করেননি, বারবার বলেছেন \\\"আমরা\\\"। উনি নিজের ব্যক্তি পরিচয় ভুলে গিয়ে, একটা সমগ্র সত্তার দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ যে ব্যক্তি বা দলস্বার্থের জন্য বিকিকিনির আইটেম না, এই সুক্ষ সততার অনুভুতি এসব অসভ্য চেতনাৎসিদের মাঝে অনুভূত না হলেও মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক মির্জা ফখরুল ঠিকই বোঝেন! আর দেওয়ানবাগীর ফুটকা মাছের মতন পেট দেখে হাসাহাসি করার আগে জেনে নিয়েন, বাংলাদেশে দেওয়ানবাগীদের চেয়েও আরো বড় ভণ্ড এসব এই নব্য চেতনাৎসিরা! এদেরকে বয়কট করা ফরজের পর্যায়ে পড়ে।
আর এই পুরো তর্কটাই একটা কুতর্ক। এখন আরো অনেক বড় যুদ্ধ আমাদের সামনে, এই লেখাটা পড়ুন, এইসব কোল্ড হেডেড ক্রিমিনালদের চিনে রাখুন কেউ আজাইরা তর্ক করতে আসলে গালে বসিয়ে দিন। তারপর এই লেখাটার কথা ভুলে যান! কারণ সামনে আরো বড় যুদ্ধ! আদর্শের নাম করে লাল সালু খুলে বসা অসভ্য অসৎদের হাত থেকে মুক্তির সেই যুদ্ধে মন দিন!
  
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহিতি)