দেশি বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র আর বানোয়াট মনগড়া অভিযোগের পাহাড়কে মিথ্যে প্রমাণিত করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বাংলাদেশের স্বপ্ন পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুটির ষাট ভাগ কাজ শেষ হয়ে দ্রুত সমাপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে এর বিশাল কর্মযজ্ঞ। বস্তুত পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অবস্থান করবে এক শক্তিশালী জায়গায়। পাশাপাশি এই সেতুর ফলে বাংলাদেশ উন্নয়ন আর অগ্রযাত্রার এক নতুন দিগন্তে পা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সেতু দক্ষিণ এশিয়ায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেতু নির্মাণ নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে এযাবতকালে যেসব কল্পকাহিনি রচিত হয়েছে পদ্মা সেতুতে এসে তা এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন পদ্মা সেতুর শুরু থেকে দেশীয় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এ নিয়ে জল ঘোলা করার খেলায় নামে। এই চক্রটির সঙ্গে সমভাবাপন্ন একাধিক আন্তর্জাতিক মহলও হাত মেলায়। মহলটির পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয় পদ্মা সেতু নিয়ে সিরিজ মিথ্যে গালগল্প, প্রতিবেদন, কাহিনি আর একের পর এক বানোয়াট অভিযোগের ফিরিস্তি, মামলা। প্রথম দিকে এ নিয়ে খানিক বিব্রত হলেও পরবর্তীতে সরকার মহলটির সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বুঝতে পেরে নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকার মনোভাবে অটল থাকেন। এসব নিয়ে পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর থাকলেও তাদের কাছে নতি স্বীকার না করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজের দেশ আর দেশের মানুষের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নিজের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রমাণ করে বিশ্ব ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব ষড়যন্ত্রকারী মহলকে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আপনারা সবাই ষড়যন্ত্রকারী, মিথ্যেবাদী আর আমিসহ আমার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী (তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন) সত্য আর আমার দেশের ষোল কোটি মানুষ সত্য। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস পদ্মা সেতু নিয়ে শুরু থেকে কুচক্রিমহলের উত্থাপিত কথিত সকল দুর্নীতি, অনিয়ম-অভিযোগ এবং দেশ বিদেশের আদালতে দায়ের করা মামলা সময়ের সাথে সাথে মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
দুই
পদ্মা সেতুর নির্মাণের শুরু থেকে একটি শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী মহল পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার খেলায় মরিয়া হয়ে ওঠেন। স্বার্থান্বেষী এই মহলের সঙ্গে দেশের একটি চিহ্নিত সুশীল সমাজ শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে প্রধান টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। মহলটি আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হওয়ায় পদ্মা সেতু নিয়ে তাদের কল্পিত ষড়যন্ত্রের জাল বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পদ্মা সেতুকে উপলক্ষ করে মহলটি নানাভাবে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। মহলটি সরকারকে হুমকি দেয় তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী না চললে তারা পদ্মা সেতুতে প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত নেবে। সেতু থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেবে। মহলটির এই হুমকিতে প্রধানমন্ত্রী নিজের অবস্থান থেকে একচুল পরিমাণও নড়েননি এমনকি তার সরকারকেও এব্যাপারে কোনধরনের আপস না করার নির্দেশ দেন। তবে বিশ্ববাসীর কাছে সরকার নিজেদের সততা আর স্বচ্ছতার বিষয়টি পরিস্কার রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে স্থির ছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা নানা কারণে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পেরে না উঠে তারা তাদের অন্যতম টার্গেট হিসেবে বেছে নেয় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন ষড়যন্ত্রকারীদের আসল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা তিনি তার দেশ আর উন্নয়নের নীতিতে অটল ছিলেন। তবে শেখ হাসিনা এধরনের ষড়যন্ত্রের শুরু থেকেই সৈয়দ আবুল হোসেনের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিলেন। তিনি জানতেন পদ্মা সেতু এবং যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে কেন্দ্র করে এসব ষড়যন্ত্র আর মিথ্যে মামলা দেশের গণতন্ত্র আর উন্নয়ন, অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়ার সুদূরপ্রসারী নীলনকশা। আর একারণে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে আপস করেননি। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাসহ তাদের মদদপুষ্ট তথাকথিত সুশীল সমাজের কতিপয় সুবিধাবাদী সুশীল, চিহ্নিত আদর্শহীন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আর সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। এরা সম্মিলিতভাবে পদ্মা সেতুসহ সৈয়দ আবুল হোসেনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে গণমাধ্যমে সংবাদ- প্রতিবেদন, প্রচ্ছদ কাহিনি এমনভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাশ করতে থাকে যার ফলশ্রুতিতে এর দায়ভার কাঁধে নিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। যদিও পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রকারীদের সেসব বানোয়াট সংবাদ, মনগড়া অভিযোগ দেশ-বিদেশের আদালতে মিথ্যে বলে প্রতিপন্ন হয় যা বিশ্ববাসী দেখেছে।
সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের মানিলন্ডারিং শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি তাদের অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ড পত্রের আলোকে প্রমাণিত হয়নি বলে কমিশন কর্তৃক পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
তিন
পদ্মা সেতু নিয়ে সকল অভিযোগ, মিথ্যে মামলা আর ষড়যন্ত্রের দিন আজ শেষ। দেশ বিদেশের নাম করা প্রায় সব গণমাধ্যম আজ একথা পরিস্কার ভাষায় স্বীকার করেছে যে পদ্মা সেতুকে জড়িয়ে বিশ্ব ব্যাংকসহ স্বার্থান্বেষী মহলটি সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশেষ করে সৈয়দ আবুল হোসেনকে প্রধান টার্গেট করে যে দুর্নীতির অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছিল তা ছিল পুরোপুরি মিথ্যার বেসাতি। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সব সময়ই নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছেন। তিনি পদত্যাগের আগে ও পরে একই স্বরে কথা বলে চলেছেন। গণমাধ্যম নানাভাবে কারণে অকারণে তার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও তিনি কখনো গণমাধ্যমের বিপক্ষে দাঁড়াননি। কথা প্রসঙ্গে তিনি তার সহজাত ভঙ্গিতে সহজ সরল ভাষায় বললেন, আমি সব সময় নিজের সততার কাছে পরিষ্কার থাকতে পছন্দ করি। আমি আমার ব্যক্তি জীবনে সব সময় একটা নীতি অবলম্বন করে চলি তা হলো আমি কি করছি তা জেনেশুনে করি। আমাকে উপজীব্য করে পদ্মা সেতু নিয়ে যে বা যারা যে ধরনের গালগল্প তৈরি করেছে আমি কখনোই তার প্রতিবাদ করিনি। কারণ ঐ যে বললাম আমি জানি আমি কি করছি। আজ তো কানাডার আদালত থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন সবাই যে যার তদন্ত ও অনুসন্ধানে আমার বিপক্ষে কিছু পায়নি। তারা আমাকে চিঠি দিয়ে তাদের দুর্বলতার কথা জানিয়ে আমাকে সেই কল্পিত অভিযোগ আর মিথ্যে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।