ডাকসুর ভিপি হিসেবে নুর এর জয় লাভকে অনেকেই ভালোভাবে নিতে পারছেন না। সমস্যা কি? সমস্যা হচ্ছে নুর শিবির। তো ডাকসুতে ’শিবির কর্মী’ নুর ভিপি হয়ে গেলো কিভাবে? হুমম! এই প্রশ্নটা কেউ করছেন না। নুর এর চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে যারা ব্যস্ত তাদের এই বিষয়টা ভাবতে বলি। ওর পেছনে কোনো সুসংগঠিত ছাত্র সংগঠন ছিলো না। ক্ষমতার, প্রশাসনের আশির্বাদও তার প্রতি ছিলো না। বরং কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে ছেলেটা ক্যাম্পাসে, ক্যাম্পাসের বাইরে নির্যাতিতই হয়েছে। অসম্ভব বৈরিতা মোকাবেলা করেই সে ভোটের লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। তবু শিক্ষার্থীরা তাকে ভোট দিলো কেন?
যে ১১ হাজার শিক্ষার্থী তাকে ভোট দিয়েছে তাদের সবাইকে শিবির বলবেন? গত ১০ বছর ধরে তো ক্যাম্পাসে সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগ ছাড়া আর কোনো সংগঠনের কার্যত কোনো তৎপরতা নেই। তা হলে এতো শিবির কোত্থেকে এলো? তর্কের খাতিরে ধরে নেই, শিবির হয়েছে। তা হলে আপনারা কি করেছেন? মাথার উপর ক্ষমতার ছায়া থাকা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের একক আধিপত্য হয়ে উঠলো না কেন? কেন গোপন বিচারের সুযোগে এতগুলো শিক্ষার্থী নুর নামের এই ছোকরাটাকে বেছে নিলো?
বলি কি, কথায় কথায় ’শিবির’, ’শিবির’ না করে নিজেদের দিকে তাকান। সুসংগঠিত সংগঠনের নেতাকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা কেন ’একজন শিবির কর্মী’কেই ভোট দেয়- সেটা ভাবেন। যদি পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই ’রাজাকার’ হয়ে গিয়ে থাকে, ’শিবির’ হয়ে গিয়ে থাকে, সেটি কার ব্যর্থতায় হয়েছে, সেটা ভাবেন। আদর্শিকভাবে, সাংগঠনিকভাবে আপনারা কি করেছেন- তার হিসাব মেলান।
নুরকে গালি গালাজ করে, অসম্মান করে কোনো লাভ নেই। শিক্ষার্থীরা তাকেই নেতা মেনেছে, তার উপরই আস্থা রেখেছে। রাজনীতির প্রতি শিক্ষার্থীরা যে অনাস্থা প্রকাশ করেছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
সূত্র:বিডি প্রতিদিন