আমাদের একজন ফয়সল মাহমুদ স্যার আছেন। যিনি একজন আপাদমস্তক সৎ লোক। যা এই সমাজে সব থেকে বেশি বিরল। যিনি গতানুগতিক পদ্ধতির বাহিরে গিয়ে চিন্তা করেন। প্রচলিত পদ্ধতির বাহিরে গিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন একটা পরিবর্তনের।
পুলিশের একজন ডিপুটি কমিশনার (ডিসি) যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে চালকদের ট্রাফিক নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন করেন তখন সেটা এই দেশের প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক ব্যাপার। এই কাজটা যদি লোক দেখানোর জন্য হত তাহলে তিনি সেটা ২০-৩০ মিনিট করে এসি গাড়িতে করে উনার জন্য বরাদ্দকৃত এসি কামরায় বসে এই অসহনীয় গরমে একটু আরাম করতেন।
কিন্তু না তিনি এসব করেন মন থেকে। দেশের প্রতি কতটুকু ভালবাসা থাকলে এরকম কাজ করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ফয়সল মাহমুদ স্যার। প্রায় প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাইভারদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে রাস্তায় কিভাবে চলতে হবে সেই শিক্ষা দিচ্ছেন। আবার যখন একটু ক্লান্ত হয়ে পরেন তখন হাতে মাইক নিয়ে রাস্তায় চলাচলকারী মানুষদের ট্রাফিক নিয়ম কানুন সম্পর্কে সচেতন করছেন।
শুধু এই কাজ করে ঘরে ফিরে যেতে পারতেন। তিনি সারাক্ষণ রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। নগরীর এক পাশ থেকে অন্য পাশ সব জায়গার উনার বিচরণ। ফুটপাত দখল মুক্ত করনে মেয়র সাহেবের যতটা অবদান আছে ডিসি ট্রাফিক স্যারের অবদান কোনো অংশেই কম না। সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর মাধ্যমে তিনি প্রতিটি কাজের খোঁজ খবর রাখেন। এসব তিনি না করলেও পারতেন। তিনি এসব করেন এই সোনার বাংলাকে ভালোবাসেন বলেই।
স্যার সব সময় একটি কথা বলেন, আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে। আসলেই তো দেশের মানুষ যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে দেশ কিভাবে পরিবর্তন হবে? তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়ে যদি মানুষকে সচেতন করতে পারেন তাহলে আমরা কেন দেশকে ভালোবেসে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি না? দেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে পারিনা?
পৃথিবীতে যা কিছু পরিবর্তন হয়েছে তার পেছনে একটা খ্যাপাটে ব্যপার কাজ করেছিল। প্রতিটি রেভুলেশন বা বিপ্লবের ইতিহাস পড়লে একজন খ্যাপাটে মানুষের অবদানের কথা জানা যায়। সেটা সমাজ পরিবর্তন হোক বা স্বাধীনতা অর্জন হোক। শুধু সভা সেমিনার বক্তৃতা দিয়ে সমাজ পরিবর্তন হয় না। তার জন্য প্রয়োজন কিছু খ্যাপাটে কাজ কারবার। প্রথম দিকে এই কাজগুলোকে মানুষ পাগলামি মনে করলেও এর সুফল মানুষের ভুল ধারণা পরিবর্তন করে।
ব্যারিস্টার সুমন সাহেব যখন প্রথম লাইভে এসে বিভিন্ন রকমের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন তখন অনেকেই এটাকে পাগলামী বলা শুরু করলেন। কিন্তু যখন ব্যারিস্টার সাহেব লাইভে আসলে সমস্যাটা দ্রুত সমাধান হওয়া শুরু করলো তখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য। কারণ মানুষের মনে এখন বিশ্বাস জন্মেছে সুমন সাহেব যদি লাইভে এসে কথা বলেন তাহলে সমাধান দ্রুত আসবে।
সমাজ পরিবর্তন করতে হলে কাউকে না কাউকে গতানুগতিক পদ্ধতির বাহিরে গিয়ে তার সমাধানের পথ খুজে বের করতে হবে। আপনি যদি সারাদিন ধরে টকশো করে কথা বলেন তাতে কোনো কাজে আসবে না তার বড় প্রমাণ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মতো এতো বেশি টেলিভিশন টকশো পৃথিবীর অন্য কোথাও হয় কি না তা আমার জানা নাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত টকশোতে কথা বলে কোনো সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে আমার জানা নাই। টকশোতে যারা কথা বলেন তারাও জনানেন যতই কথা বলেন না কেন দিন শেষে সব আগের মতই চলবে।
আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি সমাজ এবং দেশের জন্য অল্প করে হলেও ভালো কিছু করি তাহলে আমাদের সমাজ-দেশ এমনিতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমি পুলিশের সার্জেন্ট। আমি যদি বলি আমি পুলিশ সুপার হলে এই করতাম সেই করতাম। কিন্তু আমি যদি পুলিশ সুপার হতাম তাহলে বলতাম আমি এমপি হলে এই করতাম সেই করতাম। এমপি হলে বলতাম যদি মন্ত্রী হতাম তাহলে সকল সমস্যার সমাধান করে দিতাম। কিন্তু আমি আমার বর্তমান অবস্থানে থেকেও সমাজের জন্য ভালো কিছু করার সামর্থ্য আছে।
আমি আমার সাধ্যের ভেতর যদি ভালো কিছু করার চেষ্টা করি তাহলে তাতেই সমাজের উপকার হবে। একজন সুইপার তার কাজ সঠিকভাবে করে বলেই আপনি আমি আবর্জনামুক্ত থাকতে পারি। তাই আমি বিশ্বাস করি সমাজের জন্য কিছু করতে চাইলে সে তার নিজের অবস্থান থেকেই করতে পারবে। ভালো কিছু করতে হলেই যে বড় কিছু হতে হবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। আমি চাইলে হয়তো মন্ত্রীর কাজ করতে পারবো না কিন্তু আমি চাইলে ১০০ জন মানুষকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে পারবো। ৫০ জন মানুষকে সেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। যেটা অন্য আরেকজন পারবে না।
আপনার অবস্থান থেকে আপনি প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করুণ দেখবেন এই দেশ সত্যি সোনার বাংলায় পরিনত হচ্ছে। আপনি যদি সত্যি বঙ্গবন্ধুকে ভালো বাসেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।