মাননীয় বাংলাদেশ সরকার ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা, যারা দেশ পরিচালনা দায়িত্ব ছিলেন, আছেন ও আগামীতে থাকবেন। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ আপনারা দুর্নীতি বন্ধ করেন আমরা প্রবাসীরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ উপহার দেব। আমি একজন রেমিটেন্স মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলতে পারি দেশে যদি দুর্নীতি বন্ধ হয়, তাহলে প্রবাসীরা আর হুন্ডিতে টাকা পাঠাবে না।
আমার জানা মতে প্রায় এক কোটি প্রবাসী আছে, তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রবাসী হুন্ডিতে টাকা পাঠাই। দেশের দুর্নীতিবাজরা তাদের কালো টাকা সাদা করার জন্য প্রবাসে তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্ট দিয়ে হন্ডির ব‍্যবসার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করছে, বিদেশে বসে এজেন্ট দিয়ে টাকা কালেকশন করে আর দেশে বসে দুর্নীতিবাজরা তাদের কালো টাকা সরকারি রেট থেকে বেশি দিয়ে প্রবাসীদের ঘরে টাকা পৌঁছাই দেয়। এইভাবে দুর্নীতিবাজরা তাদের কালো টাকা সাদা করছে, সময় সুযোগ বুঝে দুর্নীতিবাজ মানুষগুলো বিদেশে এসে এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিশ্বের নামিদামি ব‍্যাংকে টাকা জমা রাখছে। আমি নিজে অনেক প্রবাসীদের সাথে কথা বলেছি, আপনারা কেন বৈধ পথে টাকা না পাঠিয়ে অবৈধপথে টাকা পাঠান। সবাই উল্টো আমাকে প্রশ্ন করে বৈধভাবে টাকা পাঠালে সরকার কি দুর্নীতি বন্ধ করতে পারবে। সরকার কি প্রবাসীদের এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ করতে পারবে? সরকার কি ইমিগ্রেশন অফিসে গেলে সন্মানের সাথে আমাদের কাজটি করে দেবে? সরকার কি পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে পারবে? যদি না পারে তাহলে আমরা কেন বৈধভাবে টাকা পাঠাবো?
আমার কোনো উওর ছিলো না একজন প্রবাসী হিসেবে। সব কয়টা কথা সঠিক এবং শুধু হয়রানি না চরমতম অপমানিত হতে হয় প্রবাসীদের। দেশের ৪০ ভাগ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদান বহন করে প্রবাসীদের রেমিটেন্স। একবার চিন্তা করেন যদি সমস্ত প্রবাসী বৈধভাবে দেশে টাকা পাঠাতো দেশে তাহলে আমি মনে করি এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশ হতো আমার বাংলাদেশ। সব শেষে সরকার কে বলতে চাই আপনারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দিন, আমরা প্রবাসীরা বাংলাদেশের কৃষক ও গার্মেন্টস সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে সিঙ্গাপুর, জাপান ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ উপহার দেব। আপনারা শুধু সঠিক দায়িত্ব পালন করবেন যার যার জায়গা থেকে। ধন্যবাদ সবাইকে, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।