বাংলাদেশে অপরাধ করেন বা রাজনীতি করেন এমন মানুষদের উদ্ভাবনী কাজকর্মে মুগ্ধ না হয়ে উপায় কী? এই দেখেন কী দারুণ কাণ্ড ঘটেছে জয়পুরহাটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী গত এপ্রিলে জয়পুরহাটে ৮০ জন ’চরমপন্থী’ হিসেবে আত্মসমর্পণ করেছেন। এখন জানা যাচ্ছে তারা আসলে চরমপন্থী নন। বরং তালিকাভুক্তদের মধ্যে সাতজন ফাঁসির আসামি আছেন। আছেন সন্ত্রাসী আর মাদক ব্যবসায়ী।তালিকার অন্তত ২২ জন ছাত্রদল, যুবদল বা বিএনপির নেতা-কর্মী। বাদবাকি প্রায় সবাই যুবলীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেন, যাঁদের বেশ কয়েকজন অতীতে বিএনপি-জামায়াতের ঘরে ছিলেন। প্রশ্ন হলো কেন চরমপন্থী হিসেবে তারা আত্মসমপর্ণ করলেন?
কারণটা অভিনব। চরমপন্থী সেজে আত্মসমর্পণ করলে ঝুটঝামেলা থাকবে না, টাকা পাওয়া যাবে—এই লোভ তাঁদের দেখিয়েছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের দুই নেতা। বিস্ময়কর তথ্য হলো, জয়পুরহাটে চরমপন্থীদের আত্মসমর্পণে নেতৃত্ব দেন রমজান আলী, নেতা হিসেবে যিনি প্রণোদনার টাকা পান ১০ লাখ। কিন্তু এই রমজান আবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও বহাল আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে।
প্রায় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এমন সব ঘটনা আছে। সাবেক সহকর্মী হারুন ভাইয়ের দারুণ অনুসন্ধানী নিউজ। তবে সবচেয়ে মজা পেয়েছি  চরমপন্থী সংগঠনের নামে। জয়পুরহাটের কথিত চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণ করেন কাদামাটি সংগঠনের নেতা-সদস্য হিসেবে।  জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম হাক্কানী বলেছেন, ’এই জেলায় এলেমাটি, বেলেমাটি, কাদামাটি, দোআঁশ মাটি—সবই আছে। কিন্তু কাদামাটি নামের কোনো চরমপন্থী সংগঠনের নাম কোনোকালে শুনিনি।’
আসলেই তো! আমাদের কালে কালে আরও কত কী যে দেখতে হবে। আমি শুধু ভাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সামনে রেখে এতো বড় প্রতারণা যারা করে, পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবার চোখে যারা ধুলো দিতে পারে তারা কতো বড় বুদ্ধিমান! হায়রে বাংলাদেশ! জানি না এক জীবনে আর কতো প্রতারণা, আরও কতো উদ্ভাবন দেখতে হবে!


সূত্র:ঢাকাটাইমস ২৪