শনিবার রাত ১২টা। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তায় একজন সহকর্মী জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলবেন। আমি যেন ফোন খোলা রাখি, এই অনুরোধ সহকর্মীটির। এক-দুই মিনিটের মধ্যেই মুঠোফোন বেজে উঠল। ধরলাম। অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল কথা বলবেন।
আমি: আসসালামু আলাইকুম, কামাল ভাই। কেমন আছেন?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ওয়ালাইকুম সালাম। আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

আমি: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। বলুন, কামাল ভাই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আপনাকে একটা আপডেট দেই। হয়তো আপনার জানা নেই। ইতিমধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত হচ্ছে।

আমি: আসলে বিষয়টি তো সেনসেটিভ। যিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিমানের পাইলট, তাঁর এমন ভুল! গাফিলতি!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ভুল তো হয়েছেই। পাইলটের নিজের ভুল। ইমিগ্রেশনেরও ভুল। আর বিমানের কর্মী যারা ফ্লাইটে যায়, তাদের একটা ক্রু ব্রিফিং হয়, সেখানেও বিষয়টি ধরা পড়া উচিত ছিল। এ ছাড়া বিমানে ওঠার আগেও একবার এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ফাইনাল চেকিং হয়। সেখানেও পাসপোর্ট দেখাতে হয়। আপনি যখন বিদেশ যান তখন নিশ্চয়ই এটি ফেস করেন। এমনকি আমরা যারা মন্ত্রী আমাদেরও কিন্তু পাসপোর্ট দেখানোর নিয়ম।

আমি: আপনি ঠিকই বলেছেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মানে একাধিক ত্রুটি ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ভুল তো হয়েছেই। তবে পাইলট ও উড়োজাহাজের ক্রুদের ইমিগ্রেশনের নিয়ম একটু ভিন্ন। তাদের পাসপোর্ট দেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু পাসপোর্টে ’সিল’ লাগে না। যারা এই গাফিলতি, ভুল করেছে আমরা সেটি দেখছি গুরুত্ব দিয়েই।

আমি: আপনাকে ধন্যবাদ যে বিষয়টি আপনি আমার সাথে শেয়ার করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আপনার লেখাটি আমি পড়েছি। আরও কিছু কথা আছে আমার। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের শক্ত অবস্থানের কথা তো আপনারা জানেন। সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছি। কক্সবাজারে এই যে কয়দিন আগে একজন ’ইয়াবা ডন’ বন্দুকযুদ্ধে মারা গেল। কোনো রকম শৈথিল্য এ ক্ষেত্রে করছি না, আমরা করবও না। আর রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট না পায়, সে বিষয়টি আমরা আরও সিরিয়াসলি দেখছি। কিছুসংখ্যক যে পেয়েছে সেগুলো ফেরত আনা এবং যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেই কাজগুলোও ভেতরে ভেতরে আমরা করছি। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা দরকার। রাত অনেক হয়েছে। এখন ঘুমান। ভালো থাকবেন।

শেষ হলো কথোপকথন এভাবেই। আমি রীতিমতো মুগ্ধ। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ব্যস্ত একজন মানুষ। তাঁর সময় কোথায় কোন কাগজে, অনলাইন পোর্টালে কী লেখা হচ্ছে তা পড়ার? এরপর আবার সংশ্লিষ্ট লেখক, প্রতিবেদক ও সম্পাদককে ফোন করে বিস্তারিত আলোচনা করার সময়ই বা কোথায়?

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একজন ঠাণ্ডা, ভদ্র ও অমায়িক মানুষ এটি জানতাম। কিন্তু প্রত্যক্ষ কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। সেটি হলো। যা শুনেছি বা জেনেছি এর আগে, তার চেয়েও বেশি অমায়িক ও ভদ্র একজন মানুষ আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাকে বলতেই হচ্ছে, একজন দক্ষ প্রশাসকও বটে। তিনি তাঁর কাজ জানেন, বোঝেন এবং করেনও। তার নজির তো একটু হলেও পেলাম।

হয়তো গতানুগতিক যে প্রচার অন্যেরা নেন, সে ক্ষেত্রে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একটু ব্যতিক্রম। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো নানা ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম। মন্ত্রী হওয়ার পরে কোনো বিতর্ক তাকে পিছু করেনি। বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে কত ধরনের নেতিবাচক খবর হয়। অতীতের অভিজ্ঞতা তো তা-ই বলে। কিন্তু আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সততা এ পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি কখনো। এটা কি কম বড় প্রাপ্তি!

ধন্যবাদ, আপনাকে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি যে ধীরে ধীরে আপনার কর্মগুণে একজন প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ আর দক্ষ প্রশাসক ও রাজনীতিক হয়ে উঠছেন সে জন্য। আপনি যে গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন সে জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনি যে গণমাধ্যমবান্ধব এবং গণমাধ্যমের গঠনমূলক লেখনীকে আমলে নেন, সে জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশের মতো একটি সমস্যাসংকুল দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনায় নানা ত্রুটি থাকবে এটিই স্বাভাবিক। এমন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নির্ভুল মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন, করবেন- এই আশাও শতভাগ করা ঠিক হবে না। কিন্তু বাংলাদেশের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত কোনো বিতর্ক নেই, এই খবরও অনেক আশার সঞ্চার জোগায় বৈকি। আপনি আপনার কাজে সফল হোন, এই কামনা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনার সাফল্যের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আমাদের ভালো থাকার বিষয়টিও যে জড়িত।

আবারও আপনাকে ধন্যবাদ, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্য রাজনীতিকদের জন্য আপনি ধীরে ধীরে অনুকরণীয় হয়ে উঠবেন, এই প্রত্যাশা।

লেখক:আরিফুর রহমান দোলন