মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১নং ফেরি ঘাট। এই ঘাটটি মূলত ভিআইপি ফেরিঘাট নামে পরিচিত। এই ঘাটে আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক স্কুলছাত্র। তিন ঘণ্টা অপেক্ষা পরে ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণে মাঝ নদীতে থাকা এ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা, পুলিশ সবার কাছে অনুরোধ করার পরও ওই কর্মকর্তা না আসা পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরি ছাড়েনি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। অথচ ভিআইপি যাবে বলে ফেরি তিন ঘন্টা বন্ধা রাখা হয়, এতে করে আহত তিতাস ঘোষের মস্তিস্কে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয়ে মারা যায়। এ নিয়ে সারা দেশে বইছে ক্ষোভ। এ বিষয়ে ডয়চেভেলে’র বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি তারা, জগণের মালিক নয় সেবক।


আর একজন মন্তব্য করেছেন, ১৩৭ কোটি জনসংখ্যার দেশ গণচীন অথচ সেখানে ভিআইপি’র সংখ্যা ৪৩৫ জন! অথচ আমাদের দেশে যুগ্ম-সচিবরা পর্যন্ত ভিআইপি। তিতাসের মৃত্যুর জন্য এই ভিআইপিরাই দায়ী।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে অর্ধলাখ টাকায় ভাড়া করা হয় আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সটি। অ্যাম্বুলেন্সটি ঘাটে এসে থামে রাত ৮টার দিকে।