প্রাণসহ ১১টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সিসার উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া খোলা দুধের নমুনায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে তাদের প্রতিবেদনে। এর পর থেকেই সারা দেশে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয় এই সকল নামিদামি কোম্পানিগুলো নিয়ে। ব্যাপারটি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কিন্তু সেখানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নামিদামি এই সব কোম্পানির হয়ে আদালতে কেসটি লড়ছেন রাষ্ট্র পক্ষের এটর্নি জেনারেল। এ সকল নিয়ে সমাজে উঠছে নানা প্রশ্ন। চলছে নানা সমালোচনা।
এবার এ বিষয়টি নিয়ে এবার পশ্ন তুলেছেন শওগাত আলী সাগর। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া তার ষ্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:-


মানবদেহের জন্য কোনটা ক্ষতিকর আর কোনটা ক্ষতিকর না সে ব্যাপারে সনদ দেয়ার দায়িত্ব কি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের। দেশের স্বাস্থ্যসেবা কি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে? তা হলে যে দুধ নিয়ে এত বিতর্ক হচ্ছে, এত কথাবার্তা হচ্ছে তার পক্ষে সাফাই করার জন্য কৃষিমন্ত্রীকে সংবাদ সম্মেলন করতে হবে কেন? তাও আবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ’কৃষি গবেষণা কাউন্সিল’ এর গবেষণার সূত্র দিয়ে।

বাজারে বিক্রি হওয়া বেশ কয়েকটি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর উপাদান থাকা নিয়ে বেশ কদিন ধরেই কথাবার্তা হচ্ছে। বিষয়টা আদালতেও গড়িয়েছে। পত্রিকায় পড়লাম কোম্পানিগুলোর পক্ষে রাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল আদালতে লড়াই করছেন। পত্রিকায় খবরটা পড়তে পড়তে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না- খোদ রাষ্ট্র কোম্পানিগুলোর হয়ে আদালতে আইনি লড়াইয়ে নামলো কেন? এটর্নি জেনারেল তো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। তার তো রাষ্ট্রের পক্ষে তথা জনগণের পক্ষে থাকার কথা। রাষ্ট্র কতিপয় কোম্পানির এজেন্ট হয়ে গেল কিভাবে? এটর্নি জেনালের আইনি লড়াই আর কৃষিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য থেকে মনে হতে পারে রাষ্ট্র তথা সরকার নিজে দুধের ব্যবসায় নিয়োজিত আছে।
মানবদেহের জন্য কোনটা ক্ষতিকর কোনটা ক্ষতিকর না- এই বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বক্তব্য আসলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি।

সরকার তথা রাষ্ট্র আসলে কোন পক্ষের? দেশের মানুষের পক্ষের? না কি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার ভ্যানগার্ড?



প্রসঙ্গত, বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টির পাস্তুরিত দুধে সিসা পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো হল- প্রাণ মিল্ক, মিল্ক ভিটা, ডেইরি ফ্রেশ, ইগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং ডেইরি, আইরান, পিউরা, সেইফ মিল্ক। আদালতে বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই ১৪ টি কোম্পানির দুধ বাজারত করতে নিষেধ করা দিয়েছেন হাইকোর্ট।