সুলতানা কামাল একজন বাংলাদেশী মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনীতিবিদ। তিনি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজুদ্দিন আহমেদের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতির ইয়াজুদ্দিন আহমেদের সাথে দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে ধারাবাহিক মতবিরোধের কারণে পদত্যাগকৃত তিনজন উপদেষ্টার মধ্যে তিনি একজন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ’নুসরাত হত্যার সঠিক বিচার নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনবে’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল জামালপুরের ডিসির আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ভিডিওটি ছড়িয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মাত্রা অতিক্রম করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের খাস কামরায় সংঘটিত ঘটনায় কারও দোষ থাকলে বিচার প্রত্যাশিত হলেও ওই ভিডিওটি যারা ছড়িয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মাত্রা অতিক্রম করেছেন। তিনি আরও বলেন, যারা এটাকে ভাইরাল করেছে, খুব একটা সুরুচির পরিচয় দেয়নি। সংস্কৃতিবান ব্যক্তি কিন্তু সংযমী হন। কতখানি সে করতে পারে, কতখানি সে করতে পারে না। কার প্রাইভেসিতে যুক্ত করতে পারে আর কতটুকু পারে না সেটাও। আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে, কে কাকে কীভাবে জব্দ করবে। প্রযুক্তির ব্যবহারেও জব্দ করার প্রবণতা এসেছে।
১৯৭১ সালের মহান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সুলতানা কামাল কাজ করেছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশ হাসপাতালে। আহত বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করবার জন্য স্থাপিত হাসপাতালটি গড়ে তুলবার সময় থেকে শুরু করে যুদ্ধ শেষ হবার সময় পর্যন্ত সুলতানা কামাল (লুলু), তাঁর ছোটবোন সাঈদা কামাল (টুলু), বেশ কয়েকজন নারী-যুবকসহ লন্ডন প্রবাসী দুজন ডাক্তার (ডা. মবিন এবং ডা. জাফরুল্লাহ) অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। সুলতানা কামালের তেমন কোনো নার্সিং প্রশিক্ষণ ছিল না। তবে ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অপার সাহস। সেবা আর ভালোবাসা দিয়ে তাঁরা সুস্থ করে তুলেছেন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের। দেশ স্বাধীন হবার পর তাঁরা নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। দেশের নারী নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুলতানা কামাল বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার যারা হন, তাদের পরিবর্তে নির্যাতনকারীরা আইনের আশ্রয় পান। নারী নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে নির্যাতনের হার কমে আসবে। সম্প্রতি জামালপুরের ডিসি আহমদ কবীরের সঙ্গে তার কার্যালয়েরই একজন নারী কর্মচারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে জামালপুরসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় কেলেঙ্কারির মুখে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে ওএসডি করে প্রশাসন।