এ দেশের ইতিহাস গড়ার প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য অংশ ছাত্ররাজনীতি। প্রথমদিকে অত স্পষ্ট না হলেও জাতীয় রাজনীতিতে এক সময় তারাই হয় প্রায় নির্ধারক। যে দৃষ্টিকোণ থেকেই হোক ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অস্বীকার করে এদেশের ইতিহাস লেখা কঠিন। ছাত্ররাজনীতির আজকের অবস্থা দেখে অনেকেই একে নাকচ করতে চান এই বলে যে, চরম অধঃপতনে পৌঁছেছে ছাত্ররাজনীতি; যা তার মূল বৈশিষ্ট্য, আদর্শ ও প্রতিবাদী চরিত্র হারিয়ে স্বার্থের আবর্তে পাক খাচ্ছে। সম্প্রতি বুয়েট থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে ছাত্ররাজনীতি। আর এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা এখন তুঙ্গে। এবার ছাত্ররাজনীতির উপকার ও প্রয়োজনিয়তা নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।তিনি লিখেছেন, ’ছাত্ররাজনীতির ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। কিন্তু জঙ্গিবাদের ভালো কোনো দিক আছে- এটা জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী লোকজন ছাড়া কেউ বলবে না। তবে এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি বর্তমান ছাত্ররাজনীতি ৮০/৯০ দশকের চেয়ে শত গুণে ভালো।’
গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ কথা লিখেছেন আশরাফুল আলম খোকন। তিনি মনে করেন, ’যেখানে ছাত্ররাজনীতি আছে সেখানে আর যাই হোক জঙ্গি বানানোর ঘাঁটি হবে না।’ ফেসবুকে আশরাফুল আলম খোকন লিখেন, ’ভালো এবং মন্দের এক সাথে বসবাস আদিকাল থেকেই। যিনি বুদ্ধিমান তিনি মন্দ দেখে ভালোর সাথে এর পার্থক্য বুঝে নেন। আমার এক খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন, আগাগোড়াই অগোছালো ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতেন। আমি তার সাথে চলে বুঝেছিলাম, ভালো থাকতে হলে জীবনে কি কি করা যাবে না। তবে তার ভালো মানবিক দিকগুলো নিজের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।


ছাত্ররাজনীতির ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। কিন্তু জঙ্গিবাদের ভালো কোনো দিক আছে- এটা জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী লোকজন ছাড়া কেউ বলবে না। তবে এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি বর্তমান ছাত্ররাজনীতি ৮০/৯০ দশকের চেয়ে শত গুণে ভালো। তখন ক্যাম্পাসগুলোতে গুলি-বোমার শব্দ না শুনে ঘুমাতে যাবার রেকর্ড খুব কম। সামান্য তর্কাতর্কিতেও ছিল অস্ত্রের মহড়া। এরপরও ঐ ছাত্ররাজনীতিই কিন্তু দেশ থেকে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এই ছাত্ররাজনীতি থেকে অস্ত্রের ঝনঝনানি শেখ হাসিনাই বন্ধ করেছেন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে। যদি আপনাদের মনে থাকে, ওই পাঁচ বছরে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ৫৪ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল শুধু বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য। যারা ভালো মা তারা ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করে।

দেখলাম, অনেক সুশীল ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দেখবেন ওনাদেরকে ফ্যামিলি টাইমের বাইরে সন্ধ্যার সময় বিভিন্ন ক্লাবে ভালোমন্দ খেয়েই সময় কাটান। ঈদের সময় নিজের ড্রাইভারকে একটি পাঞ্জাবিও কিনে দেন না। কারো কোনো উপকারেও আসেন না। আমার ছেলেরা বড় হচ্ছে। আমি তাদেরকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াব যেখানে ছাত্র রাজনীতি আছে। সে রাজনীতি করুক কিংবা না করুক। কারণ আমি জানি, যেখানে ছাত্ররাজনীতি আছে সেখানে আর যাই হোক জঙ্গি বানানোর ঘাঁটি হবে না।

বি.দ্র. অভিযানে যেসব জঙ্গি ধরা পরছে, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি খোঁজ খবর নিয়ে দেইখেন। তখন বুঝবেন ছাত্ররাজনীতি কেন দরকার।’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন বেশ সরব গণমাধ্যমে। সমসাময়িক সকল বিষয় নিয়ে বেশ বিশ্লেষন মুলক ভাবে লেখেন এই মানুষটি। তার লেখা পছন্দ করে অনেকেই তাকে ফলো করেন। মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে ৭ জানুয়ারি ২০১৯ যোগদানের তারিখ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়। এর আগেও তিনি এই দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে আসছিলেন।