বাংলাদেশের রাজৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম বড় ও স্মরনিয় নাম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বাংলাদেশের সবথেকে বড় রাজৈতিক দল আওয়ামিলীগ দলের জৈষ্ঠ্য নেতাদের মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সানিধ্যে প্রাপ্ত মানুষটিও ছিলেন তিনি। আওয়ামীলিগের রাজনীতিতে তার অবদান অনস্বিকার্য। এবার তাকে নিয়ে স্মৃতি চারন করলেন তার একান্ত প্রিয়ভাজন ব্যাক্তি শাহাব উদ্দিন চঞ্চল। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
প্রতিদিনের মত ২৩শে অক্টোবর ২০১৭ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের লন্ডনস্থ বাসায় আমি আর আশরাফ ভাই পাশপাশি রুমে ঘুমে ছিলাম ভোর রাত ৩.৩০ মিনিট ডঃ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের ফোন হ্যালো ব্রাদার চঞ্চল রিমা আমাকে ফোন করছে শিলা আর নাই সাথে সাথে বাসার নিচ তলায় চলে আসি।আসতেই হাসপাতাল থেকে আশরাফ ভাইর মেয়ে রিমার টেক্স ম্যাসেইজ Uncle now my mum have no more pain. Don’t tell daddy until i come home.

২৩শে অক্টোবর ২০১৭ লন্ডনের বেকটনের সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে সকাল ৮টায় মা-হীন সন্তান রিমা আর তার বাবার দুজনের সেই ভোরের দৃশ্য আমার দেখা জীবনে করুন দৃশ্যের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য,যখন রিমা বাবার পাশে বসে মায়ের মৃত্যু সংবাদ বলছিল- বাসায় শুধু আমরা ৩ জনই ছিলাম।রিমা বাসার আসার পর বাবাকে বলেছিল সেই একই কথা Dad- now my mum have no more pain বলার পর বাবা আর মেয়ের অবস্থা দেখে দুজনকে আমি জড়িয়ে ধরে ছিলাম বেশ কিছুক্ষন,শান্তনা দেবার মত কিছু আমার কাছে ছিলনা সে দৃশ্য কলম দিয়ে বর্ননা করা বড় কঠিন বড় হৃদয় বিদারক।

আজ সেই ২৩শে অক্টোব দু’বছর পার হলো সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সহধর্মীনি শিলা ইসলামের ২য় মৃত্যু বার্ষিকী আর প্রিয় ভাই প্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও চলে গেলেন না ফেরার দেশে, সবই সৃষ্টিকর্তার খেলা।প্রিয় শিলা প্রিয় ভাই প্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যেখানেই থাক, ভাল থাক চিরনিদ্রায় চির শান্তিতে। আজ তোমাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন শান্তিতে রাখেন। প্রিয় ভাই প্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের না বলা অনেক কথা জমিয়ে রেখেছি বার বার লেখার চেষ্টা করেও লিখতে পারি না কলম চলেনা।

১৯৮৬ সাল থেকে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৩৩ বছর কেন জানি আশরাফ ভাই আমাকে এত ভাল বাসতেন এত বিশ্বাস করতে জানি না, বেশ কয়েক বার বলেছেন ভাইজান আমি আপনার ভিতরের চঞ্চলকে দেখেছি এটা বাঁচায়ে রাখবেন আপনি আমার জীবনে ৫ আঙ্গুল দিয়ে গনা বিশ্বসী লোকদের মধ্যে অন্যতম একজন বিশ্বাসী আপনি আমার ভাই। তাঁর শেষ সময়ের অনেক রাজনৈতিক না বলা কথা বলেছিলেন ভাই জান!একদিন দেশ এবং দলের কাজে লাগবে আপনি লিখবেন সময় সুযোগে, আমার আর বেলা নাই, "বেলাও শেষ খেলাও শেষ।" আমার শেষ দিন পর্যন্ত আপনি আমার পাশে থাকবেন।আমি আপনাকে খুব বেশী ভালবাসি আপনি একজন ভাল মানুষ ভাইজান, চোঁখে জল আসতো তাঁর কথা শুনে।

আহারে আশারফ ভাই কানে বাজে তোমার সব কথা কিন্তু কিছুই লিখতে পারছিনা, মোটেই কলম চলেনা লিখতে গেলেই ইমুশন্যাল হয়ে যাই। আমেরিকায় আরিজুনারা ফিনিক্সে চিকিৎসা কালিন সময়ে একদিন আজকের এমপি লিপি আর ছোট বোন রূপা প্রায়ই বলতেন চঞ্চল ভাই বড় ভাই কেন এত ভালবাসেন আপনাকে, বলেছিলাম আমি নিজেও জানিনা, তবে হয়তো আমাকে তিনি চিনতে পেরেছেন, প্রায়ই একটি কথা বলতেন ভাইজান যে যা বলুক বলতে দিন আপনার ভিতরের চঞ্চলটা বাঁচায়ে রাখবেন।

আমিও তাঁকে চিনতে পেরেছি এক নিঃপাপ শিশুর মত একজন মানুষ। কেন জানি তিনি রাজনীতি থেকে শুরু করে যে কোন বিষয়ে নিঃদ্বিধায় বিশ্বাস করে তাঁর দুঃখ বেদনা শেয়ার করতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেইলী রোড়ের বাসায় পাশাপাশি কামরায় থাকতাম প্রায় প্রতিদিন একবার করে হাতির ঝিলের চারিপাশ ঘুরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাড়ি ফিরতাম বেডে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আড্ডা দিতাম। সেদিন বনানী কবরে নিজ হাতে তাঁর লাশ কবরে নামাতে পেরেছিলাম তাঁর ভাই বোন মেয়ে সহ পরিবারের সবাই এ সুযোগটি দিয়েছিলেন আমি তাদের পরিবারের সকলের কাছে চীর কৃতজ্ঞ।

প্রিয় শিলা প্রিয় আশরাফ ভাই তোমরা ভাল থাকো ওপারে।


প্রসঙ্গত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আশরাফুল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এর পর আওয়ামীলিগের বড় পদে অধিষ্ঠিত হন এই নেতা। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।