আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে আবার সেখানেই অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে ১৯৯১ সালে আসিফ নজরুল একটি বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা বিচিত্রায় কাজ করতেন। তিনি কিছু সময় বাংলাদেশ সরকারের একজন সরকারি কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কাজ করেছেন। আসিফ নজরুল বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে সবসময়ই কথা বলে থাকেন। এবার তিনি বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের
বেশ কড়া ভাষায় সমালোচনা করে অনেক কথা বলেছেন।


আসিফ নজরুল বলেন, ’আমি প্রায়ই বিবিসি, সিএনএন দেখি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর যখন সংবাদ সম্মেলন হয়, সেখানে সাংবাদিকরা তাদের নাস্তানাবুদ করে ফেলেন। কীসের ট্রাম্প কীসের কী! তিনবার, চারবার তারা দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন। বারবার তারা বলতে থাকেন, ’আপনার (রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীকে) কোনো অধিকার নেই আমার প্রশ্ন বন্ধ করার।’ প্রেসিডেন্টদের ঘাম ছেড়ে জ্বর চলে আসার মতো অবস্থা হয়।’

বাংলাদেশে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তুলনা করে আসিফ নজরুল বলেন, ’আর আমাদের এখানে যখন সম্পাদক সম্মেলন হয়, তারা ওখানে যানই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নাস্তানাবুদ হতে! সেখানেই শেষ না, নাস্তানাবুদ হওয়ার পর সঙ্গে যে কী একটা বেহায়া হাসি দেখি- এটা হচ্ছে বাংলাদেশের সাংবাদিক সম্মেলন। সেটাতেও তারা খুশি, খুবই আনন্দিত! আমরা কোন জায়গাতে আছি।’

আলোচনা সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ধারাও রাখা হয়েছে বলেও জানান ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ’আপনি অপরাধ করতে পারেন, এটাকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মামলা করার বিধান রাখা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। অর্থাৎ, আপনি কী ভাবতে পারেন, সেটা আগে থেকেই আরেকজন ভেবে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে! আপনি ভাবলেন কেন, আপনার ভাবনাটা তো অপরাধ। তার মানে আপনার কল্পনা, চিন্তাশক্তি আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এই আইনে আছে। ১৯৯০-এর গণআন্দোলনে যারা জড়িত ছিলেন তারা জানেন যে, কীভাবে হাসতে হবে সেটাও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শিখিয়ে দিতেন। আর নতুন এই আইনে আপনার চিন্তাটা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে।’




উল্লেখ্য, আজ শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজনকৃত "হুমকির মুখে বাকস্বাধীনতা" নামের একটি আলোচনা সভায় যোগদান করেন আসিফ নজরুল। এই আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। এই আলোচনা সভায় আসিফ নজরুল ছাড়াও এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রুবায়াত ফেরদৌসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা পৃথক পৃথক বক্তব্য প্রদান করেন।