বাংলাদেশ সম্প্রতি হারালো একজন বুদ্ধিজীবি, অধ্যাপক, মানবাধিকার কর্মিকে। বহুগুনে গুন্বানিত এই মানুষটি আর কেউ নন তিনি, অধ্যাপক অজয় রায়। বাংলাদেশের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত যিনি সকলের কাছে ছিলেন শ্রদ্ধাভাজন। তবে জীবনের শেষের দিকে এসে বেশ কষ্ট পেয়েছেন মানুষটি। আর মারা যাবার আগে তার এই কষ্টটা হয়তো মেনে নিতে পারেননি তিনি। অজয় রায়ের প্রয়াণের পরে তাকে নিয়ে বেশ লেখা-লেখহি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার অনেক ভক্ত-অনুসারিদের মধ্যে অন্যতম একজন অপরাজিতা সংগীতা। তিনি তার শিক্ষার্থীও ছিলেন। তিনি এবার অজয় রায়কে নিয়ে যে লেখনি লিখেছেন পাঠকদের উদ্দশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
দুদিন আগে যখন দেখা করতে গেলাম তখন শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিলো কৃত্রিমভাবে কিন্তু সেন্স ছিলো। অনু দা স্যারকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো, আমাকে চিনতে পারছেন কিনা। স্যার মাথা নেড়ে জানালেন পারছেন। তখনো ভেবেছিলাম, স্যার হয়তো এই যুদ্ধটা জয় করে ফিরে আসবেন। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অনু দা জানালেন আর কোনো সম্ভাবনাই নেই।

একজীবনে কতোটা যুদ্ধ আর করতে পারেন একজন মানুষ? ৮০ বছর বয়সে সন্তানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখতে হয়েছে এই মানুষটিকে এবং ছেলে হত্যার বিচার তিনি দেখে যেতে পারলেন না। অথচ জীবনের শেষ পর্যন্ত এবং মৃত্যুর পরও এই মানুষটি এদেশকে শুধু দিয়েই গেলেন। স্যার মরণোত্তর দেহদান করে রেখেছিলেন। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট এবং স্যারের বাসার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বারডেম হাসপাতালে স্যারের দেহদান করা হবে। স্যার, ক্ষমা করবেন না আমাদের, ক্ষমা করবেন না এই নষ্ট সমাজকে।



প্রসঙ্গত, অপরাজিতা সংগীতা বাংলাদেশের একজন বর্তমান যুগের লেখিকা। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নানা ধরনের লেখা লিখেছেন। বিশেষ করে তিনি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বৈষম্য নিয়ে বেশ লেখা-লেখি করেছেন। এর মাধ্যেমেই তিনি বেশ পরিচিত হয়েছেন।