বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তরের সাথে মিশে থাকা একটি নাম। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ বাংলাদেশের জন্ম গ্রহন করেন মহান এই মানুষটি। আর সেইদিনই হয়তো ভাগ্য বিধাতা তার ভাগ্যে লিখে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধিনতার স্থপতির তকমা। বাংলাদেশের যখন করুন অবস্থা পাকিস্তানিদের কাছে শোষন আর নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে জীবন পাড় করছিলেন সেই সময়টায় বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পথিকৃত হয়ে এসেছিলেন তিনি। ২০২০ সালটা তাই তার নামে করে দেয়া হয়েছে।২০২০ সালকে তাই দেশের জন্য ঘোষনা করা হয়েছে মুজিব বর্ষ হিসেবে। মুজিব বর্ষ পালন নিয়ে এবার নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন বাংলাদেশের একজন পরিচিত মুখ জনাব আসিফ নজরুল। পাঠকদের উদ্দশ্যে তুলে ধরা হলো তার স্ট্যটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :-
মুজিববর্ষ

আমি বাবা হয়েছি প্রায় একযুগ আগে। এরপর থেকে যখনি কোন মামলায় পড়েছি বা কোন ঝামেলায়, মনে হতো হায় হায়, আমি না থাকলে কি অবস্থা হবে আমার সন্তানদের। শীলাকে বিয়ে করার পর মনে হতো আমি জেলে গেলে বাচবে কিভাবে সে!

আমাদের মতোই ভালোবাসাময় সংসার ছিল বঙ্গবন্ধুর। উনার সাথে রাসেল, অল্পবয়েসী হাসিনা, রেহানা আর উনার স্ত্রীর ছবি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়, বুকের ভেতর নরম নদী উথলে উঠে। আর ভাবি, আহারে কেমন করে তিনি এদের রেখে বছরের পর বছর জেলে থেকেছেন? কিভাবে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন পথে প্রান্তরে, সংসার থেকে বহুদুরে? দেশের জন্য কি গভীর প্রেম আর মায়া থাকলে করা যায় এমন অচিন্ত্যনীয় আত্নত্যাগ!

কিছু ভুল তিনি করেছেন জীবনের শেষপ্রান্তে। কিন্তু কোন ভুলেই নাকচ হয়ে যায়না তার প্রায় পুরো জীবনের অসীম আত্নত্যাগ। কোন কিছু্ আড়াল করতে পারেনা এই সত্য যে আমার দেশটা ষ্বাধীন হয়েছে উনি জন্মেছিলেন বলে।

২.
বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি সাধারন বিচারবুদ্ধি থেকে। গনপরিষদ বিতর্ক পড়ে উপলদ্ধি করেছি সব আত্নত্যাগ তিনি করেছেন স্রেফ সাধারন মানুষের কষ্ট দুর করার জন্য।
উনার অসমাপ্ত আত্নজীবনী পড়ে এটা আরো ভালোভাবে জেনেছি। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ভারী হয়েছে বারবার। মনে হয়েছে এ বইয়ের লাইনের পর লাইন বলে আসি বাংলাদেশের সব শিশুর কাছে, তরুনের কাছে।
নিথর রাতে এটাও কখনো মনে হয়েছেে, বঙ্গবন্ধুকে আমরা উপলদ্ধি করতে পারিনি ঠিকমতো। না তার বিরোধীরা, না তার স্তাবকের পাল, না তার নিজের প্রতিষ্ঠিত দল।

৩.
আমার এ মনে করাটা দৃঢ়তর হয়েছে মুজিববর্ষ পালনের বিষয়টা দেখে। উনাকে স্বরণ করা হচ্ছে অনেকাংশে স্থুল, ব্যয়বহুল, আর আরোপিতভাবে। এসব করে কি মানুষের মনে উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগবে নাকি মানুষ বিরক্ত হয় উঠবে-মনে হয়না তা বিবেচনা করা হয়েছে ভালো করে।
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের রাত বারোটা একটায় শ্লোগান ওঠে বঙ্গবন্ধুর নামে। ভাবি, উনি বেচে থাকলে কি পছন্দ করতেন এটা? আমার এলাকায় সবচেয়ে অত্যাচারী মানুষটা চোখ রাঙ্গান মুজিববর্ষের পোষ্টারে ব্যানারে। আমার সড়কের বহু সবুজ ঢেকে গেছে উনার নামে করা বিকট তোরনে। আমার বাসায় পত্রিকার পর পত্রিকা ঢেকে গেছে অনাবশ্যক স্তুতিবাক্যে।
উনার কি ভালো লাগতো এসব?

৪.
আসল বঙ্গবন্ধুকে আমরা বোধহয় মেরে ফেলেছি মুজিববর্ষেও। আসল বঙ্গবন্ধু এসবের চেয়ে অনেক সুন্দর, অনেক মহান, অনেক মানবিক, অনেক মঙ্গলময়।
বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে মুজিববর্ষ লাগে না। শুধু একটু জানতে হয়, থাকতে হয় সামান্য বিচারবুদ্ধি।
মুজিববর্ষের অনেক আয়োজনে সে বিচারবুদ্ধিই হারিয়ে গেছে যেন।


প্রসঙ্গত, ২০২০ বাংলাদেশের জন্য মুজিব বর্ষ হিসেবে পালন হবে। আর এই বর্ষ চলবে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত। আর এই মুজিব বর্ষ পালন করতে ব্যপক কর্মসুচি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে আসতে যাচ্ছে বিশ্বের নামিদামি সব রাষ্ট্র নেতারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম গুলো হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদু,প্রনব মুখার্জি, সোনি গান্ধির মত বড় বড় নেতারা। এ ছাড়াও আসতে পারেন কানডার জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন ট্রুডো।