বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে ভরে গেছে হিংসায়। একে অন্যের বিরুদ্ধে যেন লেগেই থাকে সব সময়। আর এ ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি যে নামটা সামনে আসে তা হলো ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটা সময় ছিলো স্বর্নযুগ। যে সময়টা ছিলো ছাত্রলীগের ইতিবাচক কাজের জয়গান। কিন্তু বর্তমানে এই ছাত্রলীগই যেন সকল নেতিবাচক কাজের মুলে থাকে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বুয়েটের ঘটনাটি এখনো ভোলেননি বাংলাদেশের মানুষ। আর আবারো তেমন একটি ঘটনা করেছে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে আবারো কথা বললেন বাংলাদেশের বর্তমানের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জনাব আসিফ নজরুল। পাঠকদের উদ্দশ্যে তার এই বিষয় নিয়ে দেয়া স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:-
ঢাবির জহুরুল হক হলে শিবির সন্দেহে কয়েকজনকে সারারাত অমানুষিকভাবে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। এটি বেআইনী ও সশ্রম কারাদণ্ডযোগ্য কাজ। এটি যারা করেছে সেই ছাত্রলীগের ছেলেদের পুলিশে দেয়া হয়নি। হলের দায়িত্বে থাকা ঢাবি শিক্ষকরা পুলিশে দিয়েছে মার যারা খেয়েছে উল্টো তাদের।

উল্লেখ্য, শিবির করা বাংলাদেশের আইনে এখনো কোন অপরাধ নয়। বরং শিবির করে এ সন্দেহে কাউকে আটক, তল্লাশী, মারপিট সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ। কাউকে মেরে ফেলা সর্ব্বোচ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।



যাদের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে এসব নির্যাতন অবাধে করা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোর দায়িত্বে থাকা সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারী মামলা করা যাবে।

এ ধরনের মামলার কোন সময়সীমা নেই। মনেপ্রাণে তাই আশা করি, যারা অন্যায় মারের শিকার হচ্ছেন তারা শুধু নির্যাতকদের নয়, ঐসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও একদিন মামলা করার সুযোগ পাবেন। ১০-২০ বছর পর হলেও।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধিনতার পর পরই। কিন্তু বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি নতুন নয়। বাংলাদেশের সব বিজয়েই বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির একটা বড় অবদান রয়েছে। তবে এগুলো যেন এখন অম্লান হয়ে গেছে বর্তামন হিংসার ছাত্ররাজনীতির কাছে। এখন আর কেউ এদের গুনোগান করতে পারে না। বিশেষ করে ছাত্রলীগের অবস্থান এখন এমন তলানীতে গেছে তাদের নামে নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে শুনতে মানুষের অভ্যশ হয়ে গেছে।