গতকাল পহেলা ফেব্রুয়ারী ঢাকার দুই সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কাঙ্খিত ঢাকা সিটির মেয়র নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যেমে আগামী পাচঁ বছরের জন্য আবারো ঢাকার দুই সিটি পেলো দুই নগর পিতা।তবে এই ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সাধারন মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়াটা বেশি দেখা দিয়েছে। গতকাল অনেককেই এমন অভিযোগ করতে শোনা গেছে যে তারা নিজের ভোট নিজেরা দিতে পারেননি। আর এ বিষয়টি নিয়ে তারা বেশ অষন্তুষ্ট।গতকাল সুমাই নামের একজন তরুনী যিনি পারেননি নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি। আর নিয়ে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের উদ্দশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
দুপুর আড়াইটায় ইস্কাটনের অফিস থেকে বের হয়ে রিকশা নিলাম গন্তব্য ধানমন্ডি। আমার বাসার বাকি সবাই রমনার ভোটার হলেও আমিই একমাত্র ধানমন্ডির ভোটার। ফলে, আগেভাগে কাজ সেরে রওনা দিলাম ভোটকেন্দ্রে, ড. মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।

কলেজ গেটে যখন পৌঁছেছি তখন বেলা তিনটা। ভেতরে ঢুকেই দেখলাম কিছু আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য অলস দুপুর কাটাচ্ছেন। তাঁদের পাশ কাটিয়ে আরো কয়েকজন ভোটারসহ আমিও সামনে গেলাম। বললাম আমার ক্রমিক নম্বর। আমাকে ভেতরের দিকে পাঠিয়ে দেয়া হলো। সেখানে দ্বিতীয়বার ক্রমিক নম্বর বলতেই জানলাম আমার যেতে হবে দোতলায়।



বেশ বড় কিছু পোস্টার টানিয়ে রেখেছে। ইভিএম দিয়ে কিভাবে ভোট দিতে হয় সেই নীতিমালা ঝুলছে। আমি উপরে যাবার সময় পরে নিলাম। প্রথম ধাপ আমাকে সাদা বোতাম চেপে প্রার্থী বাছাই করতে হবে। তারপর সবুজ বোতাম চেপে নিজের ভোট নিশ্চিত করতে হবে। আমি ভাবলাম, বাহ কি সহজ নিয়ম।

মোটামুটি জমজমাট ভোটকেন্দ্র, তবে ভোটার সংখ্যা খুব বেশি নয়। সবই ক্ষমতাশীন দলের কর্মীরা। আমাকে একটা ঘরে নেয়া হলো, সেখানে বেশ কিছু পোলিং এজেন্টদের দেখলাম। সাথে তারাও আছেন যাদের থাকার কথা নয়। আমার সাক্ষর এবং আঙুলের ছাপ নেয়া হলো। এবার ভোট দেবার পালা।

আমাকে ইভিএম মেশিনের কাছে নিয়ে গেলেন এক ভদ্রলোক। তিনি আমাকে সাহায্য করবেন কারণ আমি ইভিএম ভোটে এই প্রথম। পর্দার আড়ালে তিনিও ঢুকলেন এবং বললেন শুধু সাদা বোতাম চাপবেন, আর কিছু করবেন না। বলে দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি তাঁকে বললাম, বাইরে যান। তিনি একটু বিরক্ত হয়েই বেরিয়ে গেলেন। আমি সাদা বোতাম চাপতেই মেশিন বলে উঠল, আপনার ভোটটি নিশ্চিত করতে সবুজ বোতাম চাপুন। আমি সবুজ বোতাম চাপার আগেই সেই জনৈক ভদ্রলোক ভেতরে চলে এলেন। তার সাথে এবার আরেকজন আছে।

আমাকে বললেন, আপনার ভোট হয়ে গেছে বেরিয়ে যান। আমি সবুজ বোতাম চাপতে যাব তখন তারা হুংকার দিয়ে বললেন, না আর কিছু ধরবেন না। ভোট হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু এতো বড় ব্যানারে লেখা সবুজ বোতাম চাপা লাগবে, মেশিনও বলছে সবুজ বোতাম চাপা লাগবে, আপনারা দিচ্ছেন না কেন? তারা বললেন, ভোট হয়ে গেছে চলে যান। আমি একা না, খোঁজ নিয়ে জেনেছি অনেকের পরিস্থিতি একই রকম। প্রিসাইডিং অফিসারের খোঁজ করেছিলাম, তাকেও পাইনি।

আমি বেরিয়ে আসলাম। তবে এবার নিজের সাংবাদিক পরিচয় আমি উল্লেখ করিনি, শুধু জানার জন্য যে একজন সাধারণ মানুষের কি পরিস্থিতি হয়। আমি আজ যা করেছি সেটাকে ভোট দেয়া বলে কিনা জানিনা। এক বান্ধবী শুনে বলল, একে বলে বুড়ো আঙুলে একটু কালি লাগাতে দুই মাইল পথ পাড়ি দেয়া।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ভোট নিয়ে সাধারন মানুষের এমন অভিযোগ এই প্রথমবার নয়। এর আগেও বাংলাদেশের সাধারন ভোটাররা তাদের নিজেদের ভোটাধিকার নিয়ে তুলেছে অনেক প্রশ্ন। তবে এত দিনেও এই বিষয়টি নিয়ে হয়নি কোন সুরাহা। শুধু সিটি নির্বাচন নয় আঞ্চলিক নির্বাচনগুলোতে ঘটেছে এমন অনেক ঘটনা। গেল বছরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমন অনেক অভিযোগ উঠেছিলো। অনেকেই মনে করছনে বাংলাদেশের সাধারন মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।