বাংলাদেশে এখন চলছে করোনার সংকট। বলতে গেলে দেশে এই করোনার সংকট এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক আকারে। আর এরই মধ্যে কিছুদিন পরে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু এবারের ঈদে মানুষের মনে আনন্দের থেকে বেশি থাকবে আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা। দেশে প্রতিনিয়তই বাড়ছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। এর মধ্যে দেশে খুলে দেয়া হয়েছে মার্কেট এবং শপিং মল গুলো। যা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদের কারন। এ দিকে এবারে ঈদে যারা শপিং করতে যাবেন তাদের জন্য কিছু সচেতনতা মুলক কথা স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের একজন জনপ্রিয় নারী ব্যক্তিত্ব রাশেদা রওনক খান। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো হুবহু:-


দেখতে পাচ্ছি, শুরু হয়ে গেছে অনলাইনে বিভিন্ন প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন! সামনে ঈদ! কিছু মানুষের অবশ্যই আর্থিক সামর্থ্য আছে কেনা কাটা করার হয়তো, তবে সকলের মন এতোটা শক্ত নেই যে সবাই কেনাকাটা করবেন| কিন্তু যারাই কেনাকাটা করার কথা ভাবছেন , তাদের জন্য দুটো কথা-

প্রথমত, আমরা ভাবতে পারি, এই টাকাটা যদি এবার কিছু গরীব মানুষদের দিয়ে দেই, তাহলে হয়তো তাদের পরিবারটা একটা মাস ভালো মন্দ কিছু খেয়ে থাকতে পারবে| আমার/আপনার অনেক পোশাক আলমিরাতে আছে, সেখান থেকে একটা নামিয়ে পড়লে ঈদের দিন ক্ষতি নেই| তাই এই ঈদ এর পোশাক না কিনে টাকাটা আশে পাশের গরীব মানুষজনদের দিয়ে দেয়া যায় কিনা, একটু ভাবতে পারি! কেননা নতুন করে কাপড় কিনে বেশী লাভ নেই, করোনার এই বিপর্যয়ে বাসা থেকে বের হতে না পারলে নতুন কাপড় দিয়ে কি হবে? আত্মীয় স্বজন- বন্ধুবান্ধবদের উপহার দেয়ার যে রেওয়াজ আমাদের আছে, তাদের সাথে আলাপ করে নিতে পারি যে, এবার উপহার না দিয়ে গরীবদের সাহায্য করছি| নিশ্চয়ই সকলেই আমাদের এই ভাবনাকে শ্রদ্ধাই জানাবে| এমনকি যাকাতেও এবার কাপড় দেয়ার চেয়ে বরং টাকা দিয়ে দিলে গরীব মানুষজন উপকৃত হবেন, আমি নিশ্চিত|

দ্বিতীয়ত, যদি একান্তই মন চায় কিনতে, তাহলে যেন দেশীয় পণ্য ক্রয় করি প্লিজ| আপনার আমার একটা পণ্য কেনা মানে আমাদের দেশের একজন উৎপাদককে কিছুটা এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহায্য করা| হয়তো এই উৎপাদনের সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের অনেক শ্রমিক| তারা কোন না কোনভাবে আমাদের এই প্রোডাক্ট কেনার মধ্য দিয়ে উপকৃত হবেন| অনেক উদ্যোক্তারা কষ্ট করে তাদের প্রতিষ্ঠান হয়তো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু করোনা প্রকোপে থমকে গেছে| তাদের সাহায্য করতে পারি| কোনভাবেই এই বছর ভিনদেশী পণ্য নয়, নিজ দেশের পণ্য কিনতে হবে|

এমনিতেই করোনার কারণে আমাদের অর্থনীতির চাকা অনেকটাই থমকে যাচ্ছে, তাই আমার আপনার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা হয়তো দেশকে সাহায্য করবে| আমাদের তো দেশকেই আগে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে| যতই আমরা ’সীমিত আকারে শপিং মল’ খোলা নিয়ে সীমিতভাবে সমালোচনা করি, আসলে দেশে অর্থনৈতিক কোন বিপর্যয় ঘটলে সারা দেশের মানুষ হু’/ম’/কি’/ র মাঝে পড়ে যাবে| তাই শপিংমল বর্জন করার সাথে সাথে ভিন দেশী পণ্যকেও বর্জন করি| কারণ, দেশ বাঁচানোর দায়িত্বও কিন্তু আমাদের | এই দায়িত্ব সরকারের যেমন, আমাদের সাধারণেরও!



এ দিকে করোনার প্রকোপ বাংলাদেশে বাড়ছে ব্যাপক হারে। দেশে মাত্র ২ মাসের ব্যবধানে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজারের কাছাকাছি। আর এই সংখ্যা দিন দিন বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর ঠিক সময়েই দেশের লকডাউন কিছুটা শিথিল করে দেবার বিষয়টি অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে বেশ সমালোচনার বিষয়। তারপরেও দেশের অর্থনিতী রক্ষার্থেও এমনটা দরকার ছিল বলে অনেকে দিয়েছেন অভিমত।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display