বাংলাদেশে এখন চলছে সাহেদ কাহন। বাংলাদেশের বড় রকমের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠান রিজেন্টের মালিক তিনি। এ ছাড়াও তার রয়েছে আরেকটি হাসপাতাল। তবে হাসপাতাল থাকা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সাহেদের হাসপতালে হয়েছে নানা ধরনের অপকর্ম আর অনিয়ম। যার সব কিছু এখন চলে এসেছে মানুষের সামনে। যার ফলে দেশের সবাই তাকে এখন ছি ছি করছে। তার ঘটানো নানা ধরনের অপকর্ম সামনে আসার পর থেকেই হতবাক হচ্ছে দেশের মানুষ। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের ট্যাগ লাগিয়ে তিনি নানা সময়ে নানা ধরনের অপকর্ম করে দলটির মান-ক্ষুন্ন করেছেন। আর এসব নিয়েই চারিদিকে এখন হচ্ছে নানা ধরনের লেখালেখি। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবার লিখেছেন যুক্টরাষ্ট্রের প্রবাসী এম আর ফারজানা। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-
নীতিহীন মানুষরাই দুর্নীতি করে। মানুষের জীবনে নীতি,নৈতিকতা ওতপ্রতোভাবে জড়িত। আমরা যখন আমাদের নীতি থেকে দূরে সরে যাই তখনি দুর্নীতি হাতছানি দেয়। লোভের জিহ্বা লক লক করে বাড়তে থাকে। আমরা ডুব দেই দুর্নীতির সাগরে। শুধু একজন নয়, সাথে আশেপাশের সবাইকে নিয়ে দুর্নীতির বাণিজ্য শুরু করি। পাপুল থেকে পা\’/পি\’/ য়া, শাহেদ, জেকিজির সাবরিনা, আরিফুল চৌধুরী আরো কত নাম আছে। এরা কি সমাজের বাইরের কেউ ? তাদের সাথে সমাজের বড় বড় নেতাদের উঠাবসা। সেইসব নেতারা কি জানত না তার অপরাধের কথা ? তাদের দুর্নীতির কথা ? মামুনের সাথে জেল খাটা একজন শাহেদ কি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে যায় ? কিভাবে ? এই যে ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে উঠেছে তা কি কারো জানা ছিল না ?

অবশ্যই ছিল। সুযোগ সুবিধা তার আশেপাশের লোকেরা নেয়নি তা কি করে হয় !! অবশ্যই নিয়েছে এবং তাকে সুবিধা দিয়েছে। ফলে শাহেদের কাজ করতে অসুবিধা হয়নি।

যারা দুর্নীতিকে সাপোর্ট করে তারাও দুর্নীতিবাজ। শাহেদরা সাপোর্ট পেয়েই এতদূর এসেছে। মোহাম্মদ সাহেদ বা সাহেদ করিমের ধরা পড়েছে বলেই আমরা তাকে এখন দুর্নীতিবাজ বলছি। তার মত শত শত শাহেদ আছে সমাজে। পার্থক্য শুধু তাদের মুখোশটা এখনো খুলে যায়নি। একজন শাহেদ একদিন জন্ম নেয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দুর্নীতির সাপোর্টাররা থেকে যায় আড়ালে। অর্থাৎ , এই পা\’/পি\’/ য়া ,কিংবা পাপুল বা সাব্রিনা এদেরও সহযোগী ছিল তারা মুলত আড়ালেই আছে এবং থাকে। এক শাহেদ আসবে আর যাবে কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হবে না।

লীগের অনেকে বলছেন, শাহেদ আগে বিএনপি করতো, এখন তো আওয়ামী লীগ করে। এইসব ব্লেইম গেম বন্ধ করেন। ধরা না পরা পর্যন্ত তো সাধু ছিল,তখন তো বলেননি সে আগে বিএনপি করতো !! তার লীগে ঠাই হবে না। জয়গা দিবেন আবার ধরা পরলে বলবেন চিনিনা,জানিনা এইসব শঠতা থেকে বের হয়ে এদের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হোন। অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না। ঈশান কোনে মেঘ জমে জমে একদিন তুফান হয়ে আসবে। সেদিন কেউ রক্ষা পাবেন না। দুর্নীতিবাজ ধরা পড়লে জামাত ,বিএনপি করত এমন ভাবনা থেকে বের হয়ে আসুন, এইসব কাল সাপদের বিষাক্ত ছোবলে একদিন নিজেরাই নীল হয়ে যাবেন। সেদিন আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না। বি এন পির আমলে যে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তা সবার জানা। সে দোয়াই এখন অবান্তর। কারন ক্ষমতায় যে থাকে তাদের উপর দায়ভার বর্তায়।

শাহেদ করিম বা মোহাম্মদ সাহেদ যার নামে ৩২টা মামলা আছে, যে টক শো করে। লীগের উপ কমিটিতে ছিলেন , বিভিন্ন সময় নিজের পরিচয় দিতেন বিভিন্ন নামে, কখনো মেজর , কখনো



প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস, কখনো সচিব বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। একাধিক নাম ও পরিচয়ের আড়ালে একজন দুর্নীতিবাজ সাহেদ হলেন রিজেন্ট হাসপাতাল ও গ্রুপের চেয়ারম্যান। প্রশ্ন হচ্ছে যে হাসপাতালের লাইসেন্স এর মেয়াদ ২০১৪ সালে শেষ হয়ে গেছে। আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। কীভাবে সরকার এমন একটি হাসপাতালের সঙ্গে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা চুক্তিতে গেল ? হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করত তারা । নিয়ম বহির্ভূতভাবে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে। উদ্দেশ্য অসৎ হলে যা হয় । একদিকে রোগীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আবার অন্যদিকে রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে প্রায় দুই কোটি টাকার বিল জমা দেয়। অর্থাৎ দুই দিক থেকেই ইনকাম। লোভের অসীম পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সাধারন জনগণের । যাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে , মনে করেন, যার করোনা পজেটিভ ছিল সে যখন নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে গিয়েছে, পরিবারের সাথে সময় কাটিয়েছে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েছে, তাতে তার নিজের তো ক্ষতি হয়েছে সেই সাথে তার পরিবার , আপাশেপাশের মানুষরা ও আক্রান্ত হয়েছে। কারন সে জানে তার করোনা নাই, পরীক্ষায় করে তো তাই জেনেছে,অথচ তার করোনা ছিল। ফলে তার থেকে অন্যরা সহজে সংক্রমিত হয়েছে ।
যেখানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সারা বিশ্ব লড়ছে সেখানে এই করোনা নিয়েও ব্যবসা করতে হবে ? মানুষ কতটা জঘন্য হলে কত নীচ হলে এমন কাজ করতে পারে তা ভাবা যায় ? এদের মধ্যে ভয়ঙ্কর লোভের কাল সাপ বসবাস করে , সুযোগ পেলেই এরা সাধারন মানুষের জীবনে ছোবল মারে । মানুষের এই চরম দুঃসময়ে এরা ব্যবসা করে উপরে উঠতে চায় । মনুষ্যত্ব বিবেকের দরজায় তালা লাগিয়ে এরা সমাজে ঘুরে বেড়ায়। এমন প্রতারকরা সমাজের চোখে ধুলো দিয়ে চলে কিভাবে , আজব। গতকাল দেখলাম ইতালিতে যাওয়া কয়েকজন করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে ,ফলে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, এবং ১ সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশের সাথে ইটালির ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে । অথচ দেশ থেকে তারা করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়েছিল। দুর্নীতির প্রভাব এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ। কিছুদিন আগে একজন সাংসদ পাপুল বিদেশে মানব পাচার অভিযোগে কুয়েতের জেলে আটক আছে। কুয়েতে তার প্রায় ১৩৮ কোটি কাটা জব্দ করেছে সে দেশের সরকার ।

বিশ্বের অন্য কোন দেশে করোনা নিয়ে এমন বানিজ্য ,দুর্নীতি আর দেখিনি। মাত্র কয়েকদিন আগে জেকেজি হেলথকেয়ার নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা।এমডি আরিফুল চৌধুরী এবং এর চেয়ারম্যান ডাঃ সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর দুর্নীতি দেখেছে সবাই। যে শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করতে পারে না সে শিক্ষার মূল্য কোথায় ? শুধু রাজনীতিবিদরা অসৎ তা নয় সমাজের স্তরে স্তরে অসৎ মানুষের ভিড়। আমলা থেকে কামলা সুযোগের উপেক্ষায়। হ্যা কিছু হয়ত সৎ আছে কিন্তু এই কিছু উদাহরণ হতে পারে না। দেশের অর্থিনীতি টিকে আছে প্রবাসীদের রেমিটেন্সের উপর। না হয় এই যে দেশে এত কোটিপতি কতজন সরকারকে ট্যাক্স দেয়? সব ফাঁকির রাস্তা খোঁজে। দেশে আইন আছে আইনের প্রয়োগ কি সেভাবে হয়? হয় না, হলে এত দুর্নীতি হত না। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে। পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

আমাদের অনেক পুরানো অভ্যাস দুর্নীতিবাজ কেউ ধরা পড়লেই সে কোন দলের তা নিয়ে হয় ধাক্কাধাকি, এতে সুবিধা হয় অপরাধীর। যেখানে সে সুবিধা পায় সে ছাতার তলে আশ্রয় খুঁজে। আশ্রয়,প্রশ্রয়ে লক লক করে বেড়ে উঠা সাপের ছানা একদিন বিরাট অজগরে পরিণত হয়। তখন মানুষের জীবনে এরা ছোবল দিতে দ্বিধা করে না। তাই করোনা দুঃসময়ে এরা মানুষের জীবন নিয়ে খেলে।


বাংলাদেশে করোনা কালে সাহেদ এবং তার হাসপাতাল যে কান্ড ঘটিয়েছে তা মানুষকে রিতিমত অবাক করে দিয়েছে। বিশেষ করে তার বিবেকের নিম্মগামী মনোভাব দেখে সবাই একেবারেই থমকে গেছেন। সরকারের সাথে চুক্তি ছিল তার হাসপতাল থেকে করোনা রোগীরা চিকিৎসা নিবে বিনামুল্যে। কিন্তু এসব কিছুই তোয়াক্কা করেননি তিনি। বরং তিনি সেই রোগীদের কাছ থেকে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে টাকা নিয়েছেন। আবার সেই সাথে নিয়েছেন সরকারের কাছ থেকেও। তার দুর্নিতীর কোন শেষই নেই। তবে আরো বেশি অবাক করা বিষয় হলো তাকে এখনো করা হয়নি গ্রেফতার। যা রিতিমত ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

আরো পড়ুন

মোয়াজ্জিন ও লা'শ নিয়ে যাওয়া অটোরিকশা চালকের বয়ানে সিনহা কেসের নতুন মোড়(ভিডিওসহ)

08 August, 2020 | Hits:1812

বাংলাদেশে এখন একটাই আলোচিত এবং সমালোচিত বিষয়। পুলিশের কয়েকজন বিপথগামী অফিসার একজন সাবেক আর্মির মেজরকে গু’/লি হ’/ত্যা করে...

মেজর সিনহার স্কুল জীবনের বিতর্কের ভিডিও সাড়া ফেললো অনলাইনে (ভিডিওসহ)

10 August, 2020 | Hits:719

বাংলাদেশে এখনো সব থেকে আলোচিত একটি নাম সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকশ মেজর ছিলেন। যার সুনাম...

মেজর সিনহাকে ৪ ঘন্টা আটকে রেখেছিলেন ইলিয়াস কোবরা,৯টি এসএমএস পাঠান ওসিকে

10 August, 2020 | Hits:675

বাংলাদেশ আর্মির অন্যতম চৌকস মেজর ছিলেন সিনহা। যিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালন করে গেছেন নিষ্ঠার স...

একটি জিনিসের সাহায্যে ৫ বছর পর দ্বিতীয় চেষ্টায় পালাতে সফল হলো ক'য়েদি আবুবকর

08 August, 2020 | Hits:496

বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে ছোট বেলার একটি কবিতা বেশ জনপ্রয়ি। এবং এই কবিতাটি মানুষ তার কর্ম জীবনেও বেশ প্রভাব ফেলে থাকে।...

এবার প্রকাশ্যে ওসিকে মেজার সিনহার ঘটনা সাজানোর পরামর্শ দাতার নাম

08 August, 2020 | Hits:467

একের পর এক জট পাকাচ্ছে মেজর সিনহার কেসটি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুধু বেড়ে চলছে নাটকীয়তাই। তবে এ সব নাটকের অনেকটাই এখন পর...

মধ্যে রাতে ঘুম থেকে তুলে ক্র'সফায়ার দেন ওসি প্রদীপ,টাকাও নেন ১৮ লাখ (ভিডিওসহ)

08 August, 2020 | Hits:460

নানাবিধ অপরাধের মুল হর্তা কর্তা হলেন ওসি প্রদীপ। যিনি দীর্ঘ দিন ধরেই দায়িত্বে ছিলেন টেকনাফ থানার। আর এই দায়িত্বে থাকা কা...