রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউক। রাজধানী ঢাকার বাড়ি ঘর নির্মান করতে অনুমতি নিতে হয় এই সরকারি সংস্থার কাছ থেকে। কিন্তু প্রায়সই এই ডিপার্টমেন্টের নামে শোনা যায় নানা ধরনের সমালোচনা। বিশেষ করে টাকা এবং ঘুষের লেনদেন নিয়ে হয়ে থাকে সব থেকে বেশি সমালোচনা। আর এমন রাজউকে এমন একটি ঘটনার শি’/কা’/র’/ হয়েছিল দেশের সাবেক একজন সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি এ নিয়ে দিয়েছেন একটি স্ট্যাটাস। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-
কোথায় যেন পড়েছিলাম যে, রাজউক মানুষ হয়েছে। তারা অনলাইনে বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদন করে এবং কোন রকম ঘু’/ষ’/ ছাড়াই দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন দিয়ে দেয়।

উল্লেখিত খবরের উপর ভরসা করে আমি গত ২০২০ সনের অক্টোবরের মাসের ১১ তারিখে যথানিয়মে দরখাস্ত করি। আমার ফাইলের ক্রমিক নম্বর - ৯৮৭-২০। জোনের নম্বর - ০৪। সাব জোন নম্বর - ০১।

বাস্তবে কাজ করতে গিয়ে দেখি দালালের হস্তক্ষেপ ছাড়া এক কদম এগুনো সম্ভব নয়। ফরম তোলা, টাকা জমা দেয়া, ল্যান্ড ক্লিয়ারেনস পাওয়া, অনলাইনে ইমপুট দেয়া, বাড়ির ডিজাইন জমা দেয়া, প্রতিটি টেবিলে ঘোরা ইত্যাদি কাজের জন্য আমি একজন দালালের সাহায্য নেই।

দালাল আমাকে জানায় যে আপনার এই কাজের জন্য দশ লাখ টাকা ঘুষ লাগবে। এমন কোন লোক নেই যে টাকা না দিয়ে বাড়ির নক্সার অনুমোদন লাভ করতে পারে। আমি বললাম - ’/ম’/রে’/ গেলেও ঘুষ দেবনা। আমার ত্রিশ বছরের বিজনেস জীবনে বন্দর, কাস্টমস, ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট, সরকারী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া প্রভৃতি কোন কাজেই এক পয়সা ঘুষ দেইনি।

আমার কথা শুনে দালাল বলল - তাহলে আমি শুধু আপনাকে পেছন থেকে সাহায্য করবো। আপনি অফিস থেকে একটা লোক দেন যে কিনা আপনার ফাইলের সঙ্গে ঘুরবে। তো আমার লোক সেই থেকে গত প্রায় পাঁচ মাস ক্রমাগত ঘুরছে এবং হররোজ নানাভাবে নাজেহাল হতে হতে হাল না ছেড়ে কোন টাকা ছাড়াই একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে ফাইল পৌঁছে দিয়েছে। এখন শুধু ফাইল বোর্ডে যাবে এবং অনুমোদন হবে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে - একজন কর্মকর্তা গত দেড় মাস ধরে ফাইলটি আটকে রেখেছে। আজ দেব - কাল দেব বলে আমার লোককে ঘুরাচ্ছে। কর্মকর্তার সহকারী আমার লোককে পরামর্শ দিয়েছে - মাল ছাড়ার জন্য। তা না হলে ফাইল নাকি বোর্ডে যাবেনা। আমি রাজউক কেন্দ্রীয় অফিসের বড় কর্তার নিকট টেলিফোনে অভিযোগ করলাম। তিনি বিরক্ত হয়ে ভাবলেশহীনভাবে বললেন - আমি অথরাইজড অফিসারকে বলে দিব। আমি নিজেও সেই অথরাইজড অফিসারের সঙ্গে কথা বললাম। তিনিও এমন শীতল জবাব দিলেন যা শুনে আমার কান গরম হয়ে গেলো।

উল্লেখিত অবস্থায়, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি - ঘুষ দিয়ে বাড়ি বানাব না। কিন্তু ঘু’/ষ’/খো’/র’/দে’/র বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবো। প্রথমে রাজউক চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসারকে আইনী নোটিশ পাঠাব। তারপর হাই কোর্টে রিট মামলা করবো এবং মহান আল্লাহর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবো।

আমার এই কাজের জন্য আমি আপনাদের সকলের নিকট দোয়ার দরখাস্ত করছি। আমীন ! ছুম্মা আমীন !

গোলাম মাওলা রনি বাংলাদেশের রাজনিতীর একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজনিতীর সাথে জড়িত রয়েছেন। একটা সময়ে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা। সে সময়ে হয়েছিলেন সংসদ সদস্য। আর এরপরে তিনি যোগদান করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপিতে। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনিতীতে জড়িত রয়েছেন।

আরো পড়ুন

বিচার না পাওয়ার বর্ষপূর্তি,চামড়া আর বালিশের নীচে রাখা বন্দুকের নাটকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে:তুহিন মালিক

31 July, 2021 | Hits:238

আজ ১ বছর পূর্ণ হলো বাংলাদেশের গেল বছরের সব থেকে আলোচিত একটি ঘটনা। বলছিলাম মেজর সিনহার ঘটনার কথা।যে ঘটনায় একেবারেই স্থবির...