ঈদের সকাল মানেই মিষ্টি কিছু। সারা দিন এনার্জি পাবেন মিষ্টি থেকে। সেমাই, ফিরনি, পুডিং ঈদের সকালের প্রধান মেন্যু। এই মিষ্টিতে বৈচিত্র্য আনতে পারলে সবাই আগ্রহ নিয়ে খাবে, বিশেষ করে বাচ্চা বা টিন ছেলেমেয়েরা। যেমন-স্নোবল, এগলেস জেলি, চকোলেট পুডিং, ক্রিমি কাপ কেক, রাবড়ি, সন্দেশ ইত্যাদি। এগুলো খেতেও মজা, আবার তৈরি করাও সহজ। সবচেয়ে বড় কথা এগুলো আগের দিন তৈরি করে ফ্রিজে রাখা যায়। আবার ঝাল আইটেমের মধ্যে পিৎজা, বার্গার, ডিনার রোল রাখতে পারেন।
ঈদেও গরমটা থাকবে। তাই খাবারের মেন্যুতে পানীয় রাখুন। পানীয়ের মেন্যুতে রাখতে পারেন মাল্টা, আনারস কিংবা তেঁতুলের টকমিষ্টি শরবত, মাঠা ও দইয়ের লাবাং, লাচ্ছি ইত্যাদি। খেতেও সুস্বাদু আর পুষ্টিকর।

ঈদের রান্নায় ভিন্ন কিছু

সব বাসায়ই দুপুরে মাংস-পোলাও রান্না হবে। পাশাপাশি যদি শিককাবাব, স্মোকি কাবার, গিলোটি কাবাব, সুইট ও সাওয়ার কোপ্তাকারি করা যায় তাহলে দারুণ হবে। গতানুগতিক ঝাল মাংসের চেয়ে এগুলো মুখোরোচক। গরুর মাংসের ঝোলেই সব তেল ও চর্বি থাকে। কাবাব জাতীয় খাবারে তেল-চর্বি অনেকটা কম থাকে। কাবাবের সঙ্গে পরোটা আর নান রুটি খেতে মজা। সঙ্গে রাখতে পারেন মেথি, চৌকা, পাটি, মোগলাই বা খাস্তা পরোটা। আর নানরুটি বানাতে চাইলে বানান গার্লিক, কাবুলি বা বাটার নান।

দুপুরে ভরপেটে খাওয়ার ফলে এসিডিটি বা গ্যাস হতে পারে। খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর টক দই, সামান্য চিনি, লবণ দিয়ে ব্লেন্ডারে মাঠা তৈরি করে নিতে পারেন। এতে গ্যাসের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন। চাইলে ঠাণ্ডা পানিতে লেবুর রস, চিনি ও লবণ দিয়ে শরবত বানাতে পারেন। লেবুর শরবত গরমে প্রশান্তি দেবে।

সারা দিন কাজের ঝামেলা শেষে সন্ধ্যে বা রাতে অতিথির আগমন বেশি হয়। তাই এবেলার মেন্যুতে রাখুন কোপ্তা বিরিয়ানি, হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি, হান্ডি কাবাব, বিফ মাসালা কাবাব। সঙ্গে অবশ্যই টক দই দিয়ে সালাদ বা রায়তা থাকতে হবে। বৈচিত্র্য আনতে আমড়ার আচার, রসুনের টকমিষ্টি আচার, আমলকীসহ বিভিন্ন রকম আচারও রাখতে পারেন। বিশেষ করে রসুনের আচার গরুর মাংসের সঙ্গে বেশ ভালো লাগবে। খাবারের স্বাদকে আরো বাড়াতে সঙ্গে রাখুন বোরহানি। আর শেষ পাতে ডেজার্ট, আইসক্রিম, কুলফি, মিষ্টি, সন্দেশ ইত্যাদি খাবারে পরিপূর্ণতা আনবে। হজমও ভালো হবে।

রান্নার সময় খেয়াল রাখুন, খাদ্যের পুষ্টিমান যেন বজায় থাকে। যেহেতু এই ঈদে মাংসের রান্নাই বেশি হয়, তাই খেয়াল রাখবেন মাংস যেন ভালো করে সিদ্ধ হয়। না হলে হজমের সমস্যা হবে। আর খাওয়ার পর অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

News Page Below Ad