দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনও দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকা আবশ্যক। যে প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপট থেকে বাংলাদেশ এখনো বের হতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যদি আরো কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তবে বাংলাদেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচনে অভ্যস্ত হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। তাই নির্বাচনের সময় এমন একটা সরকার থাকা উচিত যা দল নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
বুধবার (১১ জুলাই) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সেন্টার ফর গর্ভসেন্স স্টাডিস এবং আইন অনুষদের যৌথ উদ্যোগে ’ইলেকট্ররাল গর্ভনেন্স ইন বাংলাদেশ এন্ড ইটস প্রবলেমস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। তাদের ভোটাধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। টকশোতে গেলে আমরা বিভিন্ন সময় ভোটাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাই।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সুষ্টু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম ’গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছেন কি না’ জানতে চাইলে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ’আইসিইউ রুমের বাহিরের অবস্থা ফিটফাট কিন্তু ভেতরে কি হচ্ছে সেটা তো আমরা বুঝতে পারছি না।
তিন সিটি (রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল) কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খুলনার পর গাজীপুরে আমরা ’মডেল’ নির্বাচন পেয়েছি আবার আরেকটা মডেল হয়তো আমরা পেতে পারি।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়ন করেও লাভ নেই। যতদিন না দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নত না হবে, ততদিন দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব নয়। গণতন্ত্র আইসিইউ তে গেলে, নির্বাচন কমিশনকে ডাক্তারের ভূমিকায় গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। অন্য কারো দ্বারা তা সম্ভব নয়।
এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নেই। যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তারা নিজেদের স্বার্থে কমিশনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। কমিশনের নিরাপত্তা ও কাজ করার অভ্যন্তরীণ শক্তির অভাব রয়েছে। ফলে বর্তমান বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নির্বাচন করতে গিয়ে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনে সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব কমাতে হবে ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা জরুরি। কমিশনে নিজস্ব নিয়মকানুন প্রবর্তন করতে হবে।
এছাড়া সেমিনারে তিনি ’না ভোট’, ইভিএম মেশিনের স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগে অনিয়ম, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সমস্যা ও উত্তরণে উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
অধ্যাপক নাসিম আখতার হুসাইনের সঞ্চালনায় সেমিনারে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম এবং আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি কে এম সাজ্জাদ মাহসীন বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে জাবির সাবেক অধ্যাপক এম সলিমউল্লাহ খান সহ আয়োজক দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।