প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বার্নিকাটের জরুরি বৈঠক    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।  আজ সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনস্থ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার কার্যালয়ে ওই সাক্ষাৎ হবে।  কূটনৈতিক সূত্রগুলো তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।  সূত্র মতে, আগামী অক্টোবরে ঢাকা মিশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে প্রায় ৩ বছর ধরে ঢাকায় থাকা জ্যেষ্ঠ  কূটনীতিক মার্শা বার্নিকাটের। তবে সরকার প্রধানের সঙ্গে এটি তার বিদায়ী সাক্ষাৎ নয় বরং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জরুরি আলোচনা করতে যাচ্ছেন তিনি।
বৈঠকের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকার কূটনীতিকরা ধারণা করছেন, সরকার প্রধান ও মার্কিন দূতের বৈঠকের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশন, বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সহিংসতামুক্ত পরিবেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনের একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার প্রশ্নে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতায়ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগীরা।
ওই নির্বাচনে নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন নিশ্চিতে এখনই সরকার, বিরোধী দল ও স্টেকহোল্ডারদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ, বিশেষত যেকোনো মূল্যে সহিংসতাকে এড়ানো, গণমাধ্যম এবং বিরোধী মতের মুক্ত চর্চা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সবাইকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য গত সপ্তাহে মার্কিন দূত পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেখানে এ সংক্রান্ত একটি নোটভারবালও হস্তান্তর করেন। অবশ্য ৫ই সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্র  সচিবের সঙ্গে বৈঠকের দিনেই বিমানবন্দরে আকাশবীণার উদ্বোধনীতে সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা হয় বার্নিকাটের। বিমানের ভেতরে পাশাপাশি বসে একটি সেলফিও তুলেন রাষ্ট্রদূত।
সচিবের সঙ্গে বৈঠকে কেবল সরকার প্রধানের সাক্ষাৎ চাওয়াই নয়, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, খ্যাতিমান শিল্পী শহিদুল আলমের আটকাদেশ, ১৩ই সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় টিকফার চতুর্থ বৈঠক, ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে নিউ ইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশন এবং নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠক নিয়েও আলোচনা করেন মার্কিন দূত। সেখানে তিনি শিল্পী শহিদুল আলমের কারাবন্দি থাকা নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করা ছাড়াও একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখার প্রত্যাশা করেন।
নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাল্টাপাল্টির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত এ-ও জানতে চান দেশের পরবর্তী একাদশ সংসদ নির্বাচনটি আসলে কবে হবে? এ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাই বা কি? বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য পরিবেশে আয়োজন নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় বলে জানান।
নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন দূত বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়াই এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া। তবে সেই প্রক্রিয়াটি কি হবে- তার বিস্তারিত বাংলাদেশকেই ঠিক করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা মিলে এটি চূড়ান্ত করবে বলেও আশা করেন তিনি। বার্নিকাট রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সহায়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন সেদিন।
তথ্যসূত্র: মানবজমিন / deshebideshe