বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ড. এম এ জলিল। তিনি বলেন, ’সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে তার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসা শুরু করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।’
সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিএসএমএমইউ’তে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু করতে সময় লাগার প্রসঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ড. এম এ জলিল বলেন, ’ খালেদা জিয়া রিউমাটো আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত। যেহেতু তার রোগটা আর্থাইটিস। এ ধরনের রোগের চিকিৎসার আগে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা লাগে। উনাকে আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাজেস্ট করবো। এরপর উনাকে ওষুধ দেওয়া যাবে কিনা- সে লক্ষ্যেই বোর্ড এগুচ্ছে। এছাড়া তার ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে কয়দিন সময় লাগবে, তার ওপর উনার চিকিৎসা নির্ভর করছে।’
খালেদা জিয়ার ওষুধ সেবনের ব্যাপারে ড. জলিল আরও বলেন, ’এতদিন তিনি যে ওষুধ খাচ্ছিলেন, সেগুলোর ডোজ ঠিক ছিল না। এখন তার ওষুধের ডোজ কিছুটা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।’ 
প্রেস ব্রিফিংয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ড. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, ’গতকাল (রবিবার) রাত দশটার সময় খালেদা জিয়াকে দেখেছি। উনার আর্থাইটিসের কন্ট্রোল অসম্পূর্ণ। তার ডায়াবেটিসের কন্ট্রোল নেই। এ ধরনের রোগের চিকিৎসার পূর্ব প্রস্তুতি প্রয়োজন আছে। এ ধরনের চিকিৎসার প্রস্তুতির জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়। আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আগে তার রিপোর্ট পাই, রিপোর্ট যদি অনুকূলে থাকে; তাহলে দুই সপ্তাহ পরে তার চিকিৎসা শুরু করতে পারবো।’
দুজন জুনিয়র চিকিৎসককে সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাখা হয়েছে জানিয়ে ড. জলিল আরও  বলেন, ’দুজন জুনিয়র চিকিৎসককে সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাখা হয়েছে। তারা তার হিস্ট্রি সংগ্রহ করছে। এটা চিকিৎসারই একটা অংশ।’  প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চারজন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। 
প্রসঙ্গত, শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশে  কারাগার থেকে এনে বিএসএমএমইউ-এ ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউ-এর ৬১২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। 

 banglatribune