বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ও সাবেক বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার না করা এবং আইনী নোটিশের পরও ক্ষমা না চাওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকার যুগ্ম জেলা প্রথম আদালতে এ মামলা করা হয় ।
গত ৩ অক্টোবর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মো. জিয়াউল হক মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে উকিল নোটিশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ক্ষমা না চাওয়ায় মামলা করেন সালমা ইসলাম এমপি।
ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী। সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী নাজমুল হুদা বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান।
এ বছর ২৭ সেপ্টেম্বর এসকে সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে সালমা ইসলাম সম্পর্কে নাজমুল হুদার অভিযোগ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, অনাকাঙ্ক্ষিত, অনাবশ্যক ও অবাঞ্ছিত। এর মাধ্যমে নাজমুল হুদা সমাজ ও দেশ-বিদেশে সালমা ইসলামের মানমর্যাদা এবং সুনামের ক্ষতি করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-১ আসনের ভোটারদের সম্মানও হানি করা হয়েছে।
নাজমুল হুদার সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, কুৎসামূলক ও মানহানিকর অভিযোগে ক্ষুব্ধ সালমা ইসলাম এর প্রতিকার চেয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি (চাচা) ও সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ফৌজদারি মামলা (পেনাল কোড) করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কারণ তার ও তার রাজনৈতিক অভিভাবকের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এমতাবস্থায় অন্য কোনো বিকল্প না পেয়ে সালমা ইসলাম বাধ্য হয়ে দেওয়ানি (কোড অব সিভিল প্রসিডিউর) মানহানি মামলা করেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২৭.০৯.২০১৮ তারিখে ঢাকার শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজমুল হুদা। মামলা নং ১৯/৫২৩। এসকে সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহার খুবই চাতুর্যপূর্ণ ও পূর্বপরিকল্পিত। এ ছাড়া নাজমুল হুদা এজাহারে অন্যায়ভাবে সালমা ইসলামের নাম জুড়ে দিয়েছেন। যদিও এগুলোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।
নাজমুল হুদার কুরুচি ও কুৎসাপূর্ণ কার্যকলাপের শিকার ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সালমা ইসলাম। মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে এবং প্রশাসনিক যন্ত্র ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সালমা ইসলামের মানহানি করা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে তার সুনাম ও ব্যক্তিগত মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
সালমা ইসলামের পরিবারের সদস্য ও যমুনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকদের অবজ্ঞা করতে এজাহারে উদ্দেশ্যমূলক এবং মানহানিকর তথ্য জুড়ে দিয়েছেন নাজমুল হুদা।
নাজমুল হুদার বক্তব্য প্রতারণামূলক, মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। এতে সালমা ইসলামের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আইনের চোখে নাজমুল হুদা দায়ী। মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের কৈফিয়ত চাওয়া হলেও নাজমুল হুদা কোনো জবাব না দিয়ে নীরব আছেন। তাকে (নাজমুল হুদা) ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানি মামলা করা হয়েছে ।সূত্র:purboposhchim