কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত শোকরানা মাহফিলের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা আশা করছি দশ লাখেরও বেশি মানুষ শোকরানা মাহফিলে উপস্থিত হবেন।
নির্বাচনের আগে এমন একটি সমাবেশ কোনো প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ’এটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কওমি মাদ্রাসার জন্য নজিরবিহীন একটি কাজ করেছেন। যা ইতোপূর্বে কেউই করেনি। আমরা তাকে শুকরিয়া জানাতেই একত্র হবো।’
আল্লামা আহমদ শফী শোকরানা মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন কি না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ উপস্থিত থাকবেন। তিনি নিজেই তো প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছেন। এ মাহফিলের সভাপতিত্বও করবেন তিনি। আমরা দোয়া করছি, তাকে আল্লাহ তায়ালা সুস্থ রাখুন।
হেফাজতে ইসলাম একসময় সরকারের বিরুদ্ধে শাপলায় অবস্থান নিয়েছিল এখন পক্ষে চলে এসেছে কীভাবে- এমন প্রশ্ন করলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, হেফাজতে ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না। তারা শাপলা চত্বরে তাদের দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছিল। আর এখন তো অনেক বড় একটি কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন। কওমি মাদ্রাসা স্বীকৃতি প্রদান, আইন পাস করানো ছোট কোনো বিষয় নয়। এটা নজিরবিহীন।
বিশাল এই আলেমদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো দাবি রাখা হবে কি না জানতে চাইলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, সেরকম কোনো বিষয়ে সম্মিলিত পরামর্শ হয়নি। তবে জামায়াত নিষিদ্ধকরণ, কাদিয়ানিদের মিথ্যাচার প্রচারের বিরুদ্ধে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলের প্রস্তুতি কাজ পরিদর্শন করতে যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, জাতীয় দ্বীনী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সহসভাপতি মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ, মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, অভিভাবক পরিষদ সদস্য মাওলানা আইয়ুব আনসারী, ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদির প্রমুখ।