পাল্টে গেছেন বি চৌধুরী। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কিছুদিন আগেও সোচ্চার থাকা সাবেক এ রাষ্ট্রপতি তার নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তফ্রন্ট নিয়ে পুরোপুরি ’ইউটার্ন’ নিয়েছেন। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষেই তিনি স্পষ্ট করেন নিজের অবস্থান। জানিয়ে দেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন। যুক্তফ্রন্ট এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না পেছানোর দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ নভেম্বর) যুক্তফ্রন্ট নেতা ও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বি চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসির কাছে পৌছে দেন।
ইসির কাছে দেওয়া যুক্তফ্রন্টের ওই চিঠিতে নির্বাচন না পেছানোর অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা অকারণে বিলম্ব হলে জাতির মধ্যে সংশয়, বিভ্রান্তি ও হতাশার সৃষ্টি হবে—যা কোনো ক্রমেই কাম্য নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সমস্ত জাতি অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে জাতি ইসিকে ক্ষমা করবে না। , সরকার বা অন্য কোনো জোট চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে ইসি মাথা নত করবে না—এটা যুক্তফ্রন্ট ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
ইসির সঙ্গে দেখা শেষে সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তফ্রন্টের মহাসচিব আবদুল মান্নান বলেন, ইসির সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি নির্বাচনের তফসিল পেছালে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। আর এই শূন্যতা তৈরি হলে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় চলে আসতে পারে।
এর আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে। একপর্যায়ে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছিল। ইসি আগামী ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে।
প্রসঙ্গত, সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে জাতীয় ঐক্য গড়তে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন। পরে জামায়াত প্রশ্নের মতের মিল না হওয়ায় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি বি চৌধুরী।সূত্র:purboposhchim