নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব নাকচের কথা উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে সরকার। সরকার পক্ষ এক রকমের আক্রমণ করে বলেছেন, আপনারা কি অন্ধকারের শক্তি আনতে চান। আপনারা কি নির্বাচন না, নির্বাচন বানচাল করতে চান। যমুনা টেলিভিশনে ’রাজনীতি’ টকশোতে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, সংবিধানে আছে সংসদ বাতিল করে নতুন করে সরকার গঠন করার প্রবিধানও আছে। কিন্তু এবিষয়ে তারা কথা বলার কোনো সুযোগই দেননি। আর এটা আলোচনা করার জন্যই আমরা নতুন করে আবার সময় চেয়েছি। আমরা বলছি এখনও তফসিল ঘোষণা কয়েকদিন পেছালে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সকল বিষয়ে তারা একটা নেতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছেন।
নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার সরকার অনড় আছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, আমরা অনুরোধ করেছিলাম সংলাপ চলা অবস্থায় যেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে অনড় আছে। হাতে এতো সময় থাকা সত্বেও কেন তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে? আর এটি থেকেই আমরা মনে করছি আমাদের হিসাব করে পা রাখাই ভালো। এবারের সংলাপেও আমরা ৭ দফা নিয়ে আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেও যে একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে, এটা আমরা বারবার বুঝাতে চেষ্টা করেছি। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো সংবিধানে সংসদ বাতিলের বিষয়টি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীসহ যারা সরকার দলের পক্ষে ছিলেন তারা সেটা মানতে নারাজ। আমাদের প্রস্তাব ছিলো সব রাজনৈতিক দল মিলে যেন একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়। কারণ এর আগেও নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি নজির ছিলো।
তিনি আরো বলেন, আমাদের একটি প্রস্তাব ছিলো, কিভাবে আমরা নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা করে সহমতের ভিত্তিকে নির্দলীয় সরকার গঠন করা। অতীতে আমরা দেখেছি, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য মতের ভিত্তিতে তত্ত¡াবধায়ক সরকার গঠন হয়েছিলো।
বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির কথায় তারা বলেন, মামলার বিষয় পুরোটাই আদালতের বিষয়। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তবে আমরা বলেছি, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা সেটা প্রত্যাহার করতে এখনি বলছি না। আমরা চাচ্ছি, বেগম জিয়া তো জামিন পেতে পারেন। তিনি জামিন পেয়েছিলেন কিন্তু নানা তালবাহানা করে এটি বন্ধ করা হয়েছে। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে জামিন বাতিল হতো না।
মান্না বলেন, সরকার আমাদের মুখ্য বিষয় গুলোতে একমত হতে পারছেন না। আর এজন্য আমরা আরও সময় চেয়েছি আলোচনার জন্য। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনই আমার পক্ষে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবে আলোচনার জন্য আমার দুয়ার খোলা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে না, দলীয় পতাকা থাকবে। তারা কোন ধরনের সরকারি ফ্যাসিলিটি এনজয় করবে না। সব কিছু থাকবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে। সরকারের এসব কথায় আমরা পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারিনি। তারা ১ মাসের মধ্যে অসংখ্য মামলা দিয়েছে। দৃশ্যত সরকার নমনীয় মনে হলেও অন্তরে তারা কঠোর।