জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্ব থেকে মোটামুটি নির্বাসিত দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দলের কর্তৃত্ব এখন আর তার হাতে নেই। চলে গেছে স্ত্রী রওশন এরশাদের কাছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের সঙ্গে থাকতে চায় রওশনসহ জাপার একটি বড় অংশ। আর জাপার এই সিংহভাগ নেতৃবৃন্দের চাওয়া হলো, নির্বাচনের আগে বিদেশে চলে যাক এরশাদ।
জাপার একটি বড় অংশ মনে করছেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যতই থাকবেন ততই জট পাকাবেন। আর এরশাদেরও গতকাল মঙ্গলবার বা আজ বুধবারের মধ্যে সিঙ্গাপুর চলে যাওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেছেন তিনি।
জাপার নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাও  বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার বাইরে চলে যাওয়া দরকার। কিন্তু এরশাদ কঠোর ভাবেই বলেছেন, তিনি এখন দেশের বাইরে যাবেন না।
এরশাদ ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি মনে করছেন খেলা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো অনেক কিছুই করার আছে এরশাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়ও এরশাদ নাটক করেছিলেন। এরশাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও স্ত্রী রওশন এরশাদের একরোখা মনোভাবের কারণে জাপা নির্বাচনে যায় এবং সংসদের বিরোধী দল হয়।
জানা গেছে, এরশাদ ১০ ডিসেম্বরের আগে কোনো ভাবেই বিদেশে যেতে চান না। কারণ, আনুষ্ঠানিক ভাবে এরশাদ এখনো দলের চেয়ারম্যান। আর, ৯ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন। এখন এরশাদ ওই সময়ের মধ্যে কোনো ভাবে চিঠি দিয়ে যদি বলেন, জাতীয় পার্টির কাউকেই লাঙ্গল প্রতীক দেওয়া হবে না অথবা জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে তাহলেই সব হিসেবে নিকেশ বদলে যাবে। এই খেলাই যেন খেলতে চাইছেন এরশাদ। আর এজন্যই এরশাদ এখনো হাল ছাড়েননি।