বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ আগস্ট কোনো রকম উল্লাস প্রদর্শন হয়নি। কোনো রকম আনন্দ মিছিল হয়নি এবং ট্যাঙ্কের ওপরে নাচানাচির ঘটনাও ঘটেনি বলে জানালেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে একথা বলেন তিনি।
সাক্ষাতকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ট্যাঙ্কের ওপর উল্লাস-সংক্রান্ত একটি ছবি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। বলা হয়, আপনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ট্যাঙ্কের ওপর উল্লাস করেছিলেন। এ বিষয়ে মানুষ জানতে চায়…
জবাবে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ফেসবুকে এটা নিয়ে একটা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে জামায়াতের বাঁশের কেল্লা (ফেসবুক পেজ)। এখানে প্রথম তথ্যটা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ আগস্ট সারাদিনে ঢাকা শহরে কোনো জনগণ উল্লাস করেনি। কোনো গণমাধ্যমে এ নিয়ে কোনো রিপোর্ট নেই। ১৬ আগস্টে কোনো গণমাধ্যমে এ রকম কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি। কোনো পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্লাস এবং সারা ঢাকা শহরে সেনাবাহিনীর কোনো মুভমেন্টের খবর প্রকাশিত হয়নি। বঙ্গভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ বেতার কেন্দ্র, রামপুরা টেলিভিশন কেন্দ্র, ক্যান্টনমেন্ট আর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাইরে কোনো ট্যাঙ্কের মুভমেন্ট ছিল না।
তিনি বলেন, সারা ঢাকা শহরে ভয়ে এমনকি সৈনিকরাও ভীত ছিল। তারাও কোনো মুভমেন্ট করেনি। দায়িত্বের সঙ্গে বলছি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শোনার পর জনগণ হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ আগস্ট কোনো রকম উল্লাস প্রদর্শন হয়নি। কোনো রকম আনন্দ মিছিল হয়নি এবং ট্যাঙ্কের ওপরে নাচানাচির ঘটনাও ঘটেনি।
ইনু আরো বলেন, আমি তখন আত্মগোপনে ছিলাম। কারণ মোশতাক কর্তৃপক্ষ আমাকে খুঁজছিল। আমরা ১৭ আগস্ট মিছিল করি। আমি বাহাত্তর সাল থেকে যখন জাসদের রাজনীতি শুরু করি তারপর কোনো প্যান্ট-শার্ট পরিনি। আমি সবসময় পায়জামা-পাঞ্জাবি পছন্দ করি। ওখানে প্যান্ট-শার্ট পরা লোক একটা আছে। সেখানে ছবিটাকে চিহ্নিত করে জামায়াতিরা এ মিথ্যাচার করেছে আওয়ামী লীগ-জাসদে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য।
তার মতে, ট্যাঙ্কের ওপর বা সামরিক ট্রাকের ওপরে জনগণের উল্লাস ৭ নভেম্বরের পর হয়েছিল। তখন ট্যাঙ্কের ওপর ওইভাবে নাচার বয়স আমার ছিল না। জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেন-দরবার বা ঝগড়া-বিবাদে ব্যস্ত ছিলাম কর্নেল তাহের ও আমি। ওই যে ট্যাঙ্কের ওপরে যে ছবিটা, ৭ নভেম্বরে এ ধরনের বহু ছবি আছে। মানে মানুষের ছবি আছে, সাধারণ মানুষরা ট্যাঙ্কের ওপরে উঠে নাচানাচি করছে।
তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছি। ওই রাজনৈতিক কারণেই আমরা খন্দকার মোশতাকের অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরোধিতা করি। বঙ্গবন্ধু হত্যা-খুনের সঙ্গে জাসদ যদি জড়িত থাকে, তাহলে শেখ হাসিনা তো বুঝেশুনেই জাসদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। উনি কি না বুঝে জাসদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন? জাসদ রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছে এবং রাজনৈতিক কারণেই আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য। অন্য বহু দল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে। জাসদ কোনো রকম সমর্থন দেয়নি বরং খুনি মোশতাকের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে।

সূত্র: GoNews24