ঘোষণাটা দেয়া হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। কৌতুহলটা তখন থেকেই। বুধবার মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে সে প্রসঙ্গে আবার কথা বলেছেন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেছেন, সারা দেশে ১০ কোটি মানুষের ভোট ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কাষ্ঠ হাসি দিয়ে বলে, জনগণ তাদের ভোট দিয়েছে। ২৪ তারিখে তাদের উলঙ্গ করে দেওয়া হবে। তাদের সব অন্যায় সেদিন জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।
আ স ম আবদুর রব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ’অনিয়ম’ নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ গণশুনানিতে ’ভোট ডাকাতির’ সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। তিনি বলেন, গণশুনানিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সব দলকে ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দেবে এবং ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনও করবে। তবে ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না।



গণশুনানির স্থান বিষয়ে আ স ম রব বলেন, ২৪ তারিখ কোথায় গণশুনানি হবে তার স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রেসক্লাব, মহানগর নাট্যমঞ্চসহ কয়েকটি স্থান নিয়ে কথা চলছে। যেখানে জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই গণশুনানি হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণশুনানি চলবে।

জেএসডির সভাপতি আবদুর রব বলেন, গণশুনানিতে বিচারকের মঞ্চ থাকবে। সেখানে প্রধান বিচারপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেন থাকবেন। এ সময় পাশ থেকে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ড. কামাল হোসেন দলীয় লোক, তিনি কীভাবে প্রধান বিচারপতি হিসেবে গণশুনানিতে থাকবেন, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, পৃথিবীর সবাই তো দলীয় লোক, তাই বলে কি নিরপেক্ষ হতে পারবেন না?



৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করেছে বলে অভিযোগ করে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ কারণে দলটি থেকে নির্বাচিত আটজন সংসদ সদস্য শপথ নেননি।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র:নয়া দিগন্ত