অপরাধের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে শাস্তি পেতেই হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, সে ওসি হোক কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোক। নুসরাত হত্যায় কেউ ছাড় পাবে না, সে যে-ই হোক। যেহেতু তিনি পলাতক তাই তাকে খুঁজে পেতে একটু সময় লাগছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও জানান তিনি।’
রবিবার (৯ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, নুসরাত জাহানকে হত্যার ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেনেরর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চার্জশিটে তার নামও এসেছে। পালিয়ে গেলে খুঁজে পেতে হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।

এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে এক সপ্তাহ পর এখন পুলিশ বলছে, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন পালিয়ে গেছেন। ফেনী ও রংপুর দুই জায়গার পুলিশই গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

এদিকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা রংপুরে এসেছে। কিন্তু মোয়াজ্জেম হোসেন অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরোয়ানাটি সোনাগাজী থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে। রংপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ করা হয়নি। বিধি মোতাবেক কাজ করার জন্য তিনি ফেনীর পুলিশকে জানাবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল সে মারা যায়। এ ঘটনার ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে সোনাগাজী থানায় যায়। ওই সময় থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তার তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর থেকেই ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক রয়েছেন। পরোয়ানা জারির দুই দিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ১১ জুন।

বিডি২৪লাইভ