আসাদুজ্জামান খাঁন হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সরাসরি টক-শো অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৭১-এর (১৯৭১) পর আমাদের বাংলাদেশ থেকে কেউ গেছে (ভারত) বলে আমাদের ধারণা নেই। পাকিস্তান যখন স্বাধীন হলো—এখানে আসছে, আমাদের দেশ থেকেও ওখানে গিয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ের সময়ও কিন্তু সবাই যাননি। যারা যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত তালিকায় নাম দিয়েছিলেন, তাদের থেকেও কয়েকশ আবার ফিরে এসেছেন। আমাদের দেশ থেকে ৭১-এর পর কেউ ভারতে যাননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, হয়তো চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। চাকরি-বাকরি পান কিনা, সেজন্য গেছেন। অবস্থানের জন্য কেউ যাননি। ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কী করতে চান, যখন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইবে, তখন মন্তব্য করা যাবে। এখন আমাদের কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমি ভারতে গিয়েছিলাম। এই বিষয়ে কোনও কথাই তিনি বলেননি। আমাদের কথা স্পষ্ট, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তও তাই, আমরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা না বলে।

রোহিঙ্গাদের মতো আসাম থেকেও মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে কি না-সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমি মনে করি না, এ ধরনের একটা অবস্থান সৃষ্টি করবে, বা সৃষ্টি হবে। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, তারা নিজেরাই এটা সমাধান করবে। আমাদের এখানে কোনও যুক্ত হওয়ার কিংবা আমাদের এখানে পথ পাওয়ার কোনও অবস্থান সৃষ্টি হবে না। উল্লেখ্য, গত শনিবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষ। সম্প্রতি আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ১৯৭১ সালের পরে যারা শরণার্থী হিসেবে এসেছে, তারা সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তালিকার মধ্যে অনেকে আছেন, যারা নাগরিক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন এবং আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলব এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নিতে বলব। কিন্তু যত দিন ফিরিয়ে না নেওয়া হচ্ছে, তত দিন আমরা তাদের ভোটাধিকার দেব না, তবে বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।