আরিফুল হক চৌধুরী হচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র। ২০১৩ সালের ১৫ জুন মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে ২০০৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার হিসাবে নির্বাচিত ছিলেন। তিনি শুরু থেকেই বিএনপির রাজনিতীতে সক্রিয় আছেন। সিলেটে একাধিক বার নির্বাচিত মেয়র আরিফ। সিলেটের গন মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় ব্যকিত্বও তিনি। তবে এবার শোনা গেলো নতুন খবর। মেয়র আরিফের কর্মকান্ডে খুশি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। আর তাই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সিরাজ। আরিফকে ’মেধাসম্পন্ন’ ও ’চৌকস’ বলে আখ্যায়িত করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এনআরবি ব্যাংক এবং আল হারামাইন পারফিউম গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসিরকে শনিবার বিকেলে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। নগর ভবনে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ’সিলেটে একটা হারমোনি রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সিলেটের জন্য কিছু করতে চাই। রাজনৈতিক অঙ্গন হোক, পেশাজীবী হোক, ব্যবসায়ী হোক, সকলে মিলে সিলেটের জন্য যেন কিছু করতে পারি।’
মিসবাহ সিরাজ বলেন, ’সিলেটের সাথে সারা দুনিয়ার সম্পর্ক। আমাদের এই সিলেটে বহু জ্ঞানী-গুণীর জন্ম হয়েছে। সারা বাংলাদেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই সিলেট। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী প্রধান সেনাপতি ছিলেন, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ডও সিলেটের ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ’অথচ এই সিলেট শহরে আমাদের সন্তানদের জন্য, বয়স্কদের জন্য, প্রবাসীদের জন্য, পর্যটকদের জন্য একটা পার্ক নির্মাণ করতে পারিনি। মধ্যখানে আমাদের সরকার পার্কের উদ্যোগ নিয়েছিল। সিলেটের পুরনো কারাগারকে পার্কে পরিণত করার উদ্যোগ ছিল। তখন সারা বাংলাদেশে সার্বজনীন নয়, ব্যক্তিস্বার্থে এসব জায়গায় প্রজেক্ট সাবমিট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেখলেন এসব জায়গা অত্যন্ত ভালো জায়গা, এই জায়গাগুলোকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের সিলেট কারাগারের ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে উপস্থাপন হলো, উনি দেখলেন এখানেও একটি প্রজেক্ট আছে। সাথে সাথে ফাইলের কোণে তিনি লিখেন, বাংলাদেশে যতো পুরনো কারগার আছে, সেগুলো দ্বিতীয় কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মূলত জায়গাগুলো আটকানোর জন্যই এটি করেছেন তিনি।’

মিসবাহ সিরাজ বলেন, ’আমাদের মেয়র তিনি অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি, চৌকস ব্যক্তি। উনি সবদিকে নজর রাখেন। পার্কের জন্য আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যারা আছেন, তাদের সবাই মিলে যেন এই জায়গায় যেন একটি পার্ক হয়, সে পদক্ষেপ নেন। আপনারা সবাই মিলে চাপ সৃষ্টি করেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করবো।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ’এখানে (সিলেট পুরনো কারাগার) বঙ্গবন্ধু একটি সেলে থেকেছেন। ওই সেলটি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সারওয়ার হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, আরিফুল হক তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যেটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এর একজন সদস্য হিসাবে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি সিলেট নগর বিএনপি এর প্রাক্তন সভাপতি এবং জেলা বিএনপি এর প্রাক্তন সম্পাদক। ২০০৩ সালে তিনি কমিশনার হিসাবে নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে তিনি সিটি কর্পোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।