হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। টানা প্রায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন এরশাদ। এ সময়টাকে কেউ তাকে স্বৈরাচারী আবার কেউ তাকে পল্লিবন্ধু বলে আক্ষ্যা দেয়। পরে আন্দোলন করে তাকে ক্ষমতা চুত্য করা হয়ে থাকে। তার আমলেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া হয় ১ টাকার বিনিময়ে গুলশানের বাড়িটি আর দেয়া হয় ক্যান্টনমেন্টে সাড়ে ২২ বিঘার বাড়ি। এবার এরশাদের সাথে সেই সময় বিএনপির সখ্যতা এবং পরবর্তিতে দ্বন্দ নিয়ে কথা বললেন বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
আইনমন্ত্রী বলেন, এরশাদ যখন খালেদা জিয়াকে গুলশানে এক টাকায় বাড়ি আর ক্যান্টনমেন্টে সাড়ে ২২ বিঘার বাড়ি দিয়ে দেন তখন খুব ভালো লোক। আর যখন এরশাদ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তখন হয়ে যান খারাপ। উনাদের কথা জনগণ বিশ্বাস করবে না।

জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যখন উনি ( মির্জা ফখরুল) এ বক্তৃতা দেন তখন ওনার ডানে বামে কে ছিল আপনারা কি দেখেছেন? দেখেননি! উনার ডানে ছিল মওদুদ আহমেদ। মওদুদ আহমেদ এরশাদের কী ছিলেন? উনারা গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রেখেছেন মওদুদকে নিয়ে।

খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা, এতিমখানার টাকা চুরি করায় জেলে আছেন। তাকে জামিন দেয়ার এখতিয়ার একমাত্র আদালতের।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় এবারও ঠাঁই পেয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনজীবী আনিসুল হক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলা ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি।