সরকারি সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার নার্সদের অনুপস্থিতি ও দেরী করে আসার প্রবণতা চোখে পড়ার মত। স্বাস্থকেন্দ্রগুলোতে রোগীরা গেলে ডাক্তার বা নার্সদের ঠিক মত পাওয়া যায় না তাদের দ্বায়িত্ব পালনে বেশ অভেলার মনমানষিকতা দেখা যায়। এবার এ বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি অভিজাত হোটেলে এইট জয়েন্ট মনিটরিং মিশন (জেএমএম)-২০১৯: স্টেকহোল্ডার্স মিটিং টু রিভিউ দ্য প্রোগ্রেস টুয়ার্ডস অ্যান্ড টিবি ইন বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে পরিকল্পনা মন্ত্রী। এসময় তিনি দেশের সকল পর্যায়ের ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যথা সময়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ’আপনাদের (চিকিৎসক) ওপর যে দায়িত্ব আছে, সেটা পালন করছেন আমরা স্বীকার করি। তবে আরও ভালো করার জায়গা আছে। আমি গ্রামে বসবাস করি। প্রায় প্রতি হপ্তায় (সপ্তাহ) যাই গ্রামে। কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাকে মাঝে মাঝে ব্যথিত করে। উপজেলার হাসপাতালগুলোর চমৎকার অবকাঠামো আমরা করে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো অনেক জায়গায় যতজন ডাক্তার থাকার কথা, তারা থাকেন না। শুধু ডাক্তার নয়, তাদের সঙ্গে যারা আছেন যেমন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, যারা উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করছেন, যাদেরকে সবসময় জায়গায় পাওয়া যায় না।’

’কমিউনিটি ক্লিনিকেও মাঝে মাঝে যতজন থাকার কথা, যথাসময়ে আমি তাদের পাই না’, যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ’বর্তমান সরকার বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে বেশি দিচ্ছে। যদি এই সুযোগ-সুবিধা স্বীকার করেন, তাহলে নিজেকেই প্রশ্ন করেন। চিকিৎসকের যে দায়িত্ব, সেটা খেলাধুলার বিষয় নয়। একদিন জমিতে চাষ না করলে সমস্যা নেই, একদিন স্কুলে না গেলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না, কিন্তু একদিন রোগীকে সেবা না দিলে তার জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে মাঠে বসে নিজের কাজটা ঠিকমতো করুন।’

’শুধু টাকা দিয়ে সবকিছু করা যায় না, প্রয়োজন হয় নেতৃত্বের’ উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, ’দেশের এত পরিবর্তন কীভাবে হচ্ছে? কারণ এখানে দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন, দেশপ্রেমিক, দায়বোধসম্পন্ন নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে সবার চেষ্টায় এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। যদি পরিবর্তন সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে নেতৃত্বের প্রতি আরও সমর্থন দেব না। কেন আমরা অহেতুক অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে জাতির যে সম্ভাবনা সেটা নষ্ট করব?’

উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানতিতে বক্তব্য রাখার পর পরিকল্পনা মন্ত্রী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন দোষ ধরার জায়গা থেকে নয়, একজন সহকর্মী ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এসব কথা আমি বলেছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেলথ সার্ভিসের মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন সহ আরো অনেকে