প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর সম্পর্কে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে এমনটা আভাস পাওয়া যায় গতকাল থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বুষহবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক সেই অনুযায়ী আজ বুধবার বেলা ৩ টা বেজে ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আবরার কে নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন,যখন আবরার ঘটনা ঘটলো তখনই আমি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিতে বলি।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু আমার প্রশ্ন, পুলিশ যখন ফুটেজ নিলো তখন তাদের আটকে দিলো। বলা হলো ফুটেজ প্রকাশ না করা হলে তাদের যেতে দেবে না। তখন আমার সন্দেহ হলো, তাহলে কি যারা ফুটেজ নিতে আটকে দিলো তাদের মধ্যে হ’ত্যাকারীরাও ছিলো কিনা।

বুধবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হলো। তাকে এমনভাবে হ’ত্যা করা হয়েছে দেখে মনে হয়েছে সেই ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যেরকম হামলা চালানো হয়েছিলো ঠিক সেইরকম ভাবে এই হ’ত্যাকাণ্ড। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে কখন কোনো দলে ঢুকে যায় তা বলা মুসকিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরই আমি ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসময় ফুটেজ নিতে পুলিশকে ৩ ঘন্টা আটকে কেন রাখা হলো সেই প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেওয়া নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফেনী নদী নিয়ে কথা বলার শুরুতেই তিনি প্রশ্ন করেন, বলেনতো ফেনী নদীর উত্পত্তিস্থল কোথায়, কেউ না বললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা খাগড়াছড়িতে উত্পত্তি। যা ফেনীর সোনাগাজী হয়ে সাগড়ে চলে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সীমান্তবর্তী নদী। এতে দুই দেশেরই অধিকার থাকে। আমাদের প্রায় ৭টি নদী অছে সীমান্তবর্তী।



তিনি বলেন, ভারতের সাবরোমে বিশুদ্ধ পানির অনেক অভাব। ফেনী থেকে সামান্য পানি আমরা তাদেরকে দেবো। যে পানিটুকু দিচ্ছি সেটার পরিমান অত্যন্ত নগন্য। এটা নিয়ে এতো চিৎকার কিসের জন্য আমি জানিনা।

তিনি বলেন, কেউ যদি পানি চায় আর আমরা যদি না দেই এটা কেমন কথা।

ভারতে যে এলপিজি গ্যাস রপ্তানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এলপিজি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। গ্যাস আমদানি করে বোতলজাত করে আমাদের নিজেদের দেশে সরবরাহ করবো এবং ভারতের ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করা হবে না। এসময় তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন বলে েস্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে এটা কখনো হবে না। এসময় যারা ভারতকে গ্যাস দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের সমালোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এলপিজি গ্যাস আমদানি করে নিজেরা ব্যবহারের পর কিছুটা ত্রিপুরাকে দেওয়া হবে। আর ত্রিপুরা যদি কিছু চায় তবে তা দিতে হবে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধে রাজ্যটির অবদান স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইর্য়কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ফিরে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর দিল্লি সফর করেন।

দিল্লি সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয় দু’দেশের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এবার দুটি সম্মাননা পেয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) তাকে ’ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।

আর তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ শিশু তহবিল- ইউনিসেফ তাকে ভূষিত করেছে ’চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সন্মাননায়।



প্রসঙ্গত, বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে ভারতে যান। ৩ থেকে ৬ অক্টোবর দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করেন তিনি। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এই বৈঠকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রায় ৬ থেকে ৭ টি সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই হয়।