বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজপথের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, নাম তার মইন উদ্দীন খান বাদল। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের এবং সুসময়ের সঙ্গি ছিলেন তিনি। তবে আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে ভারতের একটি হাসপাতালে সবাইকে কাদিঁয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া বয়ে গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে।এবার দেশের এই অন্যতম বর্ষীয়ান রাজনীতিক সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। পাঠকদের উদ্দ্যেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
নওফেল লেখেন, \’মঈনুদ্দিন খান বাদল। বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় নেতা, অনলবর্ষী বক্তা, সংসদ সদস্য, বীর চট্টলার গৌরব, আরও অনেক কিছুতেই তাকে সম্বোধন করা যায়। না ফেরার দেশে তিনি আজ থেকে থাকবেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মনে হচ্ছে যেন আবারও পিতৃহারা হলাম।\’

বাবা চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র \’চট্টলবীর\’ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বাদলের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক উল্লেখ করে নওফেল লেখেন, \’দুবছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়েছিলেন যখন, তখন তার বন্ধু মহিউদ্দিন চৌধুরীও গুরুতর ভাবে অসুস্থ, হাসপাতালে। খুব আফসোস করতেন বন্ধুকে দেখে যেতে পারেন নাই। অশ্রু সজল নয়নে স্মরণ করতেন। আজ থেকে আমরা তাকে স্মরণ করবো।\’

চট্টগ্রামের স্বার্থে বাদল আপোষহীন ছিলেন মন্তব্য করে তিনি লেখেন, \’চট্টগ্রামের স্বার্থে, মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে, দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে কোথায় ছিল না তার গর্জন? প্রথম তার সঙ্গে আমার পরিচয় শৈশবে। এরশাদের দোর্দণ্ড শাসনের সময়। তৎকালীন পিজি হাসপাতাল, আজকের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের রাজবন্দিদের কক্ষে। আমার বাবার প্রিজন সেলের সহবন্দি ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে আপস করে মন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু বেছে নিয়েছিলেন বন্দি জীবন।\’

নওফেল লেখেন, \’আমাকে সমাজতন্ত্র শেখাতেন, দেখতেও ছিলেন স্ট্যালিনের মত, ইম্পোজিং ব্যক্তিত্ব। আমার বাবার সঙ্গে হাস্যরস আর গভীর রাজনৈতিক আলোচনায় মগ্ন থাকতেন। মন্ত্রমুগ্ধের মত তার কাছ থেকে শুনতাম। পরবর্তীতে যখনই দেখা হতো, প্রতিবার তার কাছ থেকে শিখেছি।\’

\’রাজনৈতিক আলোচনা যে শুধুই পদবির আর ক্ষমতার রাজনীতি নয় এবং রাষ্ট্রনীতি, আদর্শ, উন্নয়ন, এসবই হচ্ছে রাজনীতির মূল আলোচনা, বারবার তার সান্নিধ্যে এসে তা অনুভব করেছি এবং অনুপ্রাণিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে, তার সুযোগ্যা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে, সেই শৈশব থেকে দেখেছি অবিচল দৃঢ়তার সঙ্গে তাকে বলতে।\’

নওফেলে লেখেন, \’তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি আরও একজন বিরল প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদকে হারালো। এ এক অপূরনীয় ক্ষতি। জাতীয় সংসদ আর জাতীয় রাজনীতি, হয়তোবা এই সিংহের গর্জন আর শুনবে না। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, আদর্শিক রাজনীতির এই সিংহ পুরুষকে আজীবন স্মরণ করবেন। বেঁচে থাকবেন আমাদের প্রিয় মাঈনুদ্দিন খান বাদল, আমাদের হৃদয়ের মনিকোঠায়।\’

প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালে মাঝামাঝি সময়ে ব্রেইন স্ট্রোক করেন এই
বর্ষিয়ান ব্যক্তিত্ব। এর পর থেকেই তিনি বেশ অসুস্থ ছিলেন দির্ঘদিন ধরে। তার বর্নাঢ্য রাজনৈতক ক্যারিয়ারে রয়েছে অনেক সফলতার পালক। তিনি জাসদ এর একাংশের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন তিনি ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-৭ এর সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন।[১] এরপর, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম-৭ এর সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন