বিশ্বকাপ ফুটবল কেন্দ্র করে সমর্থকরা পতাকা উড়িয়ে, জার্সি পড়ে নিজ দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ব্রাজিলের পতাকার রঙে বাড়ি সাজিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন এক যুবক। সবাই এক নামে চিনে এই বাড়িটিকে। নগরীর ফতুল্লার লালপুর এলাকার বাড়িটির কথা এখন সবার মুখে মুখে। যা এরই মধ্যে আলোড়ন তুলেছে দেশ থেকে বিদেশেও।

বিশ্বকাপ ফুটবলের হাতে গোনা আর কয়েকদিন মাত্র। নিজ দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করত এরইমধ্যে চলছে নানা প্রতিযোগিতা। লালপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন টুটুল, ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সময় প্রথম নিজের বাড়ি সাজিয়ে ছিলেন। সে সময় তার বাড়িটি ছিল দোতলা। নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ব্রাজিলের প্রতি টুটুলের ভালোবাসা একটুও কমাতে পারেনি। আগের বাড়ি ভেঙ্গে এখন ছয়তলা বানিয়েছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এই কর্মকর্তা।

ভেতরে আধুনিক সুবিধাসহ সিসি ক্যামেরার কড়া নিরাপত্তা বাড়ি জুড়ে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার নজির সৃষ্টি করতে নিজের ছয়তলা বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন তিনি। যা এরইমধ্যে আলোড়ন তুলেছে দেশ থেকে বিদেশেও। শুধু বাড়িকে ব্রাজিলের পাতাকায় সাজানোই নয়, বাড়ির নামের প্লেটেও এই বাড়ির পরিচিতি এখন ’ব্রাজিল বাড়ি’।

ব্যাপারটিতে বেশ খুশি এলাকাবাসী। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্রাজিল সমর্থকরা বাড়িটিকে এ নজর দেখতে ছুটে আসেন। বাড়িটির কারণে তাদের এলাকাটির পরিচিতি শুধু এখন দেশে নয় দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিল বাড়ির কারণে এদেশের পরিচিতি অন্যান্য দেশে পৌঁছে যাচ্ছে।
স্থানীয় ‍যুবক বলেন, আমি একজন ব্রাজিলের সমর্থক। লালপুরের বাসিন্দা। বাইরে যখন নিজ এলাকার পরিচয় দেই সবাই ’ব্রাজিল বাড়ি’র কথা জিজ্ঞাস করে। এই বাড়িটির জন্য আজ আমাদের এলাকা নতুন পরিচয় পেয়েছে। টুটুল ভাই ব্রাজিল সমর্থকদের চোখে আইডল। এলাকাবাসী হিসেবে তার জন্য আজ আমারা গর্ববোধ করি।

পাড়া-প্রতিবেশীদের ভেতর প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকরা প্রথমে এ ব্রাজিল প্রীতি ভালো চোখে দেখেনি জানিয়ে টুটুলের ছেলে আব্দুল কাদের শান্ত জানান, বর্তমানে অনেকে এলাকার নাম ঠিকমত না জানলেও ব্রাজিল বাড়ির নাম ভালভাবেই জানে।

তিনি বলেন, তৈরির পর অনেকেই বাড়িটি নিয়ে অনেকেই ভিন্ন ধরনের কথা বলতো। এতো টাকা খরচ ও রং ব্যবহারের নিন্দুকরা নানা মত দিয়েছেন। আামি যখন স্কুলে যাই ফেরার পথে রিক্সাওয়ালাকে ব্রাজিলবাড়ির কথা বললেই নিয়ে আসে। আশেপাশে এলাকা ছাড়ও আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এটি নিয়ে কথা হচ্ছে।
পুরো বাড়িটিই ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। নিজেই বাড়ির নাম দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, বাড়ির ছাদে উড়ছে ব্রাজিলের পতাকা। এ যেন নারায়ণগঞ্জের ব্রাজিল সমর্থকদের স্বর্গভূমি। তার ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা অনেকটাই উৎসাহ দিয়েছে অন্যান্য ব্রাজিল সমর্থকদের। বাড়িটি এক ঝলক দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর দূরান্ত থেকে আশপাশের লোকজন। শুধু তাই নয় ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম দেশ পর্যন্ত এই বাড়ির নাম পৌঁছে গেছে। এখন ব্রাজিল বাড়ি নয় বাংলাদেশের নামও নতুন করে জানছে সবাই।

নেইমার-মার্সেলোরদের প্রতি এমন ভালোবাসার কারণে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের উপ রাষ্ট্রদূত জুলিও সিজার নিজে বাড়ির মালিক টুটুলের সঙ্গে আগামীকাল রোববার দেখা করতে চেয়েছেন।

আরটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে সেলেকাওদের এই ভক্ত বলেন, আমার ভাই ও ছেলেসহ মোট চারজন যাচ্ছি ডেপুটি অ্যাম্বাসেডরে সঙ্গে দেখা করতে। তিনি আমার কাছে বাসার ছবি দেখতে চেয়েছেন।

টুটুল বলেন, ব্রাজিল ভক্তদের পক্ষে আমারা জুলিও সিজারের জন্য বেশ কয়েকটি বিশেষ উপহার নিয়ে যাচ্ছি। ফ্রেমে বাধাই করা আমার বাড়িও ছবিও থাকছে।
তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটির অনেক সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আর তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইভেন্টও করছেন তারা। সেই সুবাদে একবার ব্রাজিল দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। গত সপ্তাতে দূতাবাসের এক কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরেই ডেপুটি রাষ্ট্রদূত নিজেই ম্যাসেজ দিয়েছেন।


ব্রাজিল সমর্থনে ছেলেকে বরাবরই উৎসাহ দিয়ে নিজেও ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে হয়ে যান জানিয়ে টুটুলের মা আলেয়া বেগম জানান, ছেলের কারণে ব্রাজিল বাড়ির ব্যাপক পরিচিতিতে গর্ববোধ করেন।

News Page Below Ad