দলের মহাসচিব যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেখানে আমার কোন দ্বিমত নেই। দ্বিমত করার কোন কারণ থাকতে পারে না। কারণ, আমি একজন কর্মী। কর্মী হিসেবে বৃষ্টিতে ভিজেছি, রোদে শুকিয়েছি। বিএনপি এখনো অনেক বড় একটি সংগঠন। কর্মীরা এখনো দলটিকে টিকিয়ে রেখেছে। ১২ বছর দল ক্ষমতায় নেই, লাখ লাখ আসামী করেছে আমার ছাত্রদল, যুবদলের ভাইদেরকে। বহু গুম, খুনের পর একটি দল টিকে আছে। আওয়ামীলীগ এবং আমরা যদি খোলাসা হতাম তবে আমাদের ভালো লাগতো। আমি একটা দল করি, দলকে ধারণ করি এরপরও একটা পরিচয় আছে আমার, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। কথাগুলো বলছিলেন ইনডিপেনডেন্ড টক শো তে সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার সুলতানা মনি।
মনি বলেন, আমি রাজনীতি করি দেশের মানুষের মঙ্গলের প্রত্যাশা নিয়ে। সেই মঙ্গল করার জায়গায় যদি আমার অপরাধবোধ থাকে, গাফেলতি থাকে তবে আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, দু’দিন আগে বা পরে। বাংলাদেশের নাগরিকরা খুবই অনুভূতিশীল। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় দল দেখেছি এবং দলের করুণ পরিণতিও দেখেছি । এর কারণ ভুল, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অবিশ্বাসের জন্য। বাংলাদেশ বা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগে না। যদি বিবেক সমৃদ্ধ থাকে, স্বচ্ছতা থাকে তবে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি যেকোনো সময়। এটা একটা সাময়িক ঝড়। ধরা যেতে পারে ফণী বা এরকম কিছু। ফণী যেমন কেটে গিয়েছে এটাও কমে যাবে, বিশ্বাসের জায়গাটা মজবুত থাকতে হবে।
আমরা এখানে কেউই শত্রু পক্ষ নই। আমরা একসময় একসাথে রাজনীতি করেছি । দেশের প্রয়োজনে, দেশের মঙ্গলের জন্য এক হয়েছি। বাংলাদেশে আমলা আর ব্রিটিশদের লাল ফিতার দৌরাত্ম এখনো কিন্তু শেষ হয়নি। ওরা আমাদের খারাপ চায় তা কিন্তু নয়, আমরাও তাদের ভালো চোখে দেখি না।
অনেকদিনের টানাপোড়ান, কেউ মিলিয়ে দিলো না। তারপরও অনৈতিক কাজ করলে তাদের ক্ষমতা বেড়েই যাবে। যে ছেলেটা বা মেয়েটা দিনের পর দিন মার খেলো, সাজাপ্রাপ্ত হলো, রোষানলে পড়লো সেই ছেলে বা মেয়েটা যখন তার দল ক্ষমতায় এলো যথাযোগ্য জায়গায় যেতে পারলো না তখন তার মনোবল ভেঙে যায়। পাশাপাশি একজন আমলা যখন অবসরে এসে সেই জায়গাটা অকপটে ধরে ফেলেন তখন সেখানে শ্রেণিবিভাগ হয়। কোন এক সাবেক মন্ত্রী একদিন বলেছিলেন, আমি যখন মন্ত্রণালয়ে ছিলাম তখন অমুক সচিব আামাকে স্যার ডাকতেন। এখন আমার পদটা এমন জায়গায়, আর তিনি এসেই একটা পদ পেয়ে গেছেন। ফলে তাকেই আমার স্যার ডাকতে হয়।
স্যার ডাকা কোন ব্যাপার না। যদি আমরা স্যার শব্দটা সহজ করে দিতাম। আপনি আমাকে স্যার ডাকতেন, আমি আপনাকে স্যার ডাকতাম। এটা শিক্ষিত মানুষের কথা। বাংলাদেশে এটা বোঝা হয় না, বাংলাদেশে এর অর্থ এভাবে করা হয়েছে যে, আমি আপনার সিনিয়র । সুতরাং আপনি আমাকে স্যার ডাকতে বাধ্য ।
রাজনীতিবিদদের কাছে সাধারণ মানুষ আশা করে, তাদের কথা ও কাজের মিল থাকবে। আমি যখন কথা এবং কাজের মিল করতে পারবো না, তখন একজন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করবে, ’আমি যেটা পারিনি সেই দন্ডটা তোমার হাতে দিয়েছিলাম। তুমি কি করেছ ?’ যখন আমি এর সদুত্তর দিতে পারবো না, তখনি আমার রাজনৈতিক মৃত্যু হবে, তখন আমি আর রাজনৈতিকভাবে বাঁচতে পারবো না। সূত্র:আমাদের সময়