বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল রয়েছে কোচ শুন্য। অন্তবর্তিকালিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে তার নেতৃত্বে শ্রীলংকা সফরে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ দল। যার ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য কোচ শুধু প্রয়োজন নয় সমের দাবিতে পরিনিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের সাথে অনেক আগেই চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এছাড়া মাশরাফি-মুস্তাফিজদের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ ও সাকিব-মিরাজদের স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি বিসিবি
কিছুদিন আগে মাশরাফি-মুস্তাফিজদের দীক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পায় দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ফাস্ট বোলর চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে ড্যানিয়েল ভেট্টরি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান কোচের পদটি এখনও শূন্যই আছে।

কে হবে টাইগারদের নতুন কোচ? এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পছন্দ অনুযায়ী সব থেকে দৌঁড়ে এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসন। এদিকে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বাছাই করতে পাঁচজনকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে। তারা হলেন- নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসন, জিম্বাবুয়ের গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, ইংল্যান্ডের পল ফারব্রেস, দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডমিঙ্গো ও টাইগারদের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

তবে এরই মধ্যে ঢাকায় এসে বিসিবির সঙ্গে কথা বলে গেছেন রাসেল ডমিঙ্গো। আর মাইক হেসন মাত্র ২২ বছর বয়সে কোচিং পেশায় এরই মধ্যে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তার হাত ধরেই কিউইদের ক্রিকেট ধরণ পাল্টে গেছে। হেসনের প্রতি বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আগ্রহ দেখিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় স্টাফ পত্রিকায় ’ভারত, পাকিস্তানের কোচ হওয়ার দৌঁড়ে সাবেক ব্ল্যাক ক্যাপস কোচ’ শিরোনামে একটা খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, হেসন ভারত কিংবা পাকিস্তান দলের কোচ হওয়ার দৌঁড়ে ভালো ভাবেই আছেন। তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল পাঞ্জাবের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন। নিশ্চিত না হলে নিশ্চয়ই পাঞ্জাবের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের চাকরি ছাড়তেন না! অপরদিকে হেসনকে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফগানিস্তান। সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষে নবীদের হেড কোচ ফিল সিমন্স সঙ্গে চুক্তি না বাড়ানোয় নতুন কোচ খুঁজছে আফগানরাও।

প্রসঙ্গত, মাইক হেসন নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান প্রধান কোচ। এরপূর্বে তিনি কেনিয়া এবং ওতাগো দলের কোচ ছিলেন। এছাড়াও তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০ জুলাই, ২০১২ তারিখে নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হন মাইক হেসন। এরপর দলের ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফর পর্যন্ত তার মেয়াদ বর্ধিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়োগের পূর্বে কেনিয়ার ক্রিকেট কোচের দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তাজনিত কারণে পদত্যাগ করেন। অদ্যাবধি আধুনিক যুগে নিউজিল্যান্ডের কোচ হিসেবে তাঁর কোচের পরিসংখ্যান অন্য যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় কোচের তুলনায় সবচেয়ে খারাপ।