সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের সব থেকে বড় ক্রিকেট তারকা। এ দেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পোয়ানোর ক্ষেত্রে তার অবদান নেহাৎই কম নয়। বিশ্বের বড় বড় সব ক্রিকেট লীগে তার বিচরণ। বাংলাদেশের হয়ে তার সাফল্য যে কাউকে ঈর্ষান্বিত করবে। বাংলা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দর্বার গতীতে। এবারের বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিলো চোখে পড়ার মত। নিজের ব্যাটিং আর বোলিং নৈপুন্যতা দিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপকে নিজের করে নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বর্তমানে বাংলাদেশের টেষ্ট আর টি-টুয়েন্টি দলকে নেতৃত্ব দেবার বিশাল দ্বায়িত্ব তার ঘারে রয়েছে। তবে এই দ্বায়িত্ব যেন একটু বেশিই ভারি হয়ে উঠেছে তার জন্য। আফগানিস্তানের কাছে লজ্জাজনক হারের ফলে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা। তবে এবার সাকিব ার নেতৃত্বের দায়িত্ব নিজের কাধেঁ রাখতে চাইছেন না।
সাকিব আল হাসান আবারও বললেন, ’আমি অধিনায়কত্ব করতে চাই না।’ এবার তিনি এমন ইচ্ছের কথা জানালেন চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের ২২৪ রানের লজ্জাজনক পরাজয়ের পর।

তবে নিজের একক সিদ্ধান্তে নয়, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে চান সাকিব।

সাকিব বর্তমানে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে আছেন। এই দায়িত্বটা যেন তার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাকিব মনে করছেন, নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে তার ক্যারিয়ারের জন্যই সেটা ভালো হবে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ খেলোয়াড় যেখানে চাপ দেয়ার পরও নেতৃত্ব ছাড়তে চান না, সেখানে সাকিব একটু যেন ব্যতিক্রমই!

নেতৃত্ব নিয়ে সাকিব বলেন, ’আমার মনে হয়, যদি আমি অধিনায়ক না থাকি তবে সেটাই ভালো হবে। আমার দিক থেকে দেখলে, এটা আমার ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে। আর যদি আমাকে নেতৃত্ব দিতেই হয়, তবে অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা করার আছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শুরুর ছয়দিন আগে একইরকম কথা বলেছিলেন সাকিব। দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাতকারে সাকিব বলেছিলেন, ’টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নই আমি। তবে দল যেহেতু ভালো অবস্থায় নেই, বুঝতে পারছি আমাকে এখানে নেতৃত্ব দিতে হবে। না হলে, আমি কোনো ফরমেটেই নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী নই। যদি আমি নেতৃত্ব না দেই, নিজের খেলাটার ওপর মনোযোগ দিতে পারব, যেটা দলের জন্য ভালো হবে।’

সাকিব চাইছেন, এখন থেকেই যেন তরুণ কাউকে নেতা হিসেবে গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সাকিবের এই চাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের বর্তমান পরিস্থিতির মিল নেই।

তরুণদের মধ্যে যাদের নিয়ে ভাবা হয়; সেই মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার এবং লিটন দাসকে বিসিবি এখনও অধিনায়ক করার মতো প্রস্তুত মনে করছে না।

এদিকে সিনিয়রদের মধ্যে মাশরাফি বিন মর্তুজা ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে আছেন। সাকিবের অনুপস্থিতিতে গত বছর টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে কয়েকটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তামিম ইকবাল গত শ্রীলঙ্কার সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন। তারা কেউই তেমন ভালো করতে পারেননি।

সিনিয়রদের মধ্যে মাশরাফি-সাকিব ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে কেবল মুশফিকুর রহীমের। সাফল্যও আছে। তবে বেশ কয়েকটি কারণে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, আবারও নতুন করে তার কথা ভাবলে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করে তবেই ভাবতে হবে। তাই আপাতত বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সাকিবের চেয়ে সুযোগ্য কাউকে দেখছে না বিসিবি।



উল্লেখ্য, এ নিয়ে গত দশদিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব ছাড়ার ইচ্ছে পোষণ করলেন সাকিব আল হাসান। দলের অবস্থা ব্যাপক নাজুক। বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকার সাথে টানা তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ হারবার পর সুযোগ ছিলো আফগানিস্তানের সাথে সেই হারটা পুষিয়ে নেবার। তবে হারের বৃত্ত এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ উল্টো আরো লজ্জাজনক ভাবে হেরে সমালোচকদের উষ্কে দিয়েছে সমালোচনা করতে।