ইমরান খান বর্তমানের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি ভাষন দেন তার সেই দেয়া ভাষন রিতিমত ভাইরাল হয়েছে নেটি দুনিয়ায়। পঞ্চাশ মিনিটের দীর্ঘ এই বক্তব্যে তিনি চারটি মৌলিক বিষয় নিয়ে কথা বলে বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গ্লোবাল ওয়ার্মিং, মানি লন্ডারিং, ইসলামোফোবিয়া ও কাশ্মীর- এই চারটি বিষয় নিয়ে কথা বললেও প্রসঙ্গক্রমে আরও অনেক বিষয় উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন কাশ্মীর নিয়ে। তার এই ভাষনকে অনেকে ইতিবাচক দেখলেও ভারতে প্রায় সকলে এটিকে নিয়েছে হুমকি হিসেবে।স্বা ভাবিকভাবেই তা নিয়ে গোটা ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনায় মেতে উঠেছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। এবার তাতে শামিল হলেন সাবেক বাঁহাতি পেসার ইরফান পাঠান।

সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারে তিনি লিখেছেন, জাতিসংঘে ভাষণে ভারতকে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন ইমরান খান। স্বভাবতই একজন বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়াবিদের বক্তব্যে ’রক্ত রক্ত খেলা’ ইন্দো-পাকিস্তান সম্পর্কে আরও বিভেদ সৃষ্টি করবে। একজন অনুসারী হিসেবে আমি তার কাছে শান্তি তরান্বিত করার আশা করি।

গেল ৫ আগস্ট সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে কাশ্মীরিদের বিশেষ অধিকার কেড়ে নেয় ভারতীয় সরকার। এর পর থেকে সেখানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন লাখো কাশ্মীরি। তাই ভূস্বর্গে শান্তি আনয়নের কথা বলেন ইমরান খান। এ জন্য পাকিস্তান সরকার সবকিছু করতে প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।


তবে ভারত বলছে ভিন্নকথা। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু পাকিস্তান মনে করছে, কাশ্মীরে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। শুরু থেকেই কাশ্মীরি ভাই-বোনদের নৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে পাক সরকার।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও বিশ্বকে তা স্মরণ করে দিয়েছেন ইমরান। ওই অধিবেশনে প্রতি দেশের জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ ছিল। সেখানে এর চেয়ে বেশি সময় ধরে ভাষণ দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ লেগে গেলে সেটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। দরকারে পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার হতে পারে বলে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন ইমরান।

প্রসঙ্গত,ইমরানের সেই ভাষন ভাইরাল। ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্যের প্রশংসায় করছে নেটিজেনরা। তারা ইমরান খানের এই জ্ঞাগর্ভ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্যকে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার যথাযথ দিক নির্দেশনা হিসেবে মনে করছেন। তবে অনেকেই এই ভাষনকে দেখছেন হুশিয়ারী আর যুদ্ধের আভাস হিসেবে।