বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যাড বয় নাসির হোসেন। শুধু ব্যাড বয় নয় একটা সময়ে তার নাম হয়ে উঠেছিল বেডবয় হিসেবেও। তার নানা ধরনের নারী ঘটিত কর্মকান্ডের জন্য তিনি হয়েছেন বেশ সমালোচিত। তবে সব কিছুজে উপেক্ষা করে সেরে ফেলেছিলেন বিয়ের কাজটাও। কিন্তু বিধিবাম। বিয়েটাও হলো না তার বরাতে। ডিভোর্সের আগেই বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৭/৪৯৮ ও ৫০০ ধারায় মামলা করেছেন তাম্মির আগের স্বামী রাকিব। অভিযোগ আনা ধারাগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কা’/রা’/দ’/ণ্ড’/।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

বার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীমের আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ৩০ মার্চের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর (রাকিব হাসান) সঙ্গে ১ নং আসামি তামিমা সুলতানার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৩ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে এবং রেজিস্ট্রি হয়।

বিয়ের পর হতে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। তোবা হাসান নামে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। যার বর্তমান বয়স ৮ বছর।

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির সুবাদে তিনি ২০২০ সালের ১০ মার্চ সৌদিতে যান। মহামারির কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাকিবের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো।

মামলায় বলা হয়, ’চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে ২ নং আসামির (ক্রিকেটার নাসির) কথিত বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা বাদীর নজরে আসে। বাদী এই ধরনের ছবি দেখে হতবাক হয়ে যান। পরবর্তীতে পত্রিকায় এই বিষয়ে সংবাদ দেখে তিনি ঘটনার বিষয় নিশ্চিত হন’।

এ ছাড়া তাদের গায়ে হলুদ ও বিয়ে পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান যথাক্রমে ১৭ ও ২০ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়। যা এরইমধ্যে বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ’তামিমা বাদীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় নাসিরের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। নাসির বাদীকে ফোন করে জানান যে সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তার নিকট তামিমা আছেন। বাদীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমার নাসিরকে বিয়ে করা যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। আসামির সঙ্গে তিনি অবৈধ বিয়ের সম্পর্ক দেখিয়ে শা’/রী’/রি’/ক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, যা নিকৃষ্ট ব্যভিচার’।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ’আসামিদের এরূপ অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে বাদী ও তার শিশু কন্যা মা’/রা’/ত্ম’/ক’/ভা’/বে’/ মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এহেন কার্যকলাপে বাদীর চরমভাবে মানহানি হয়েছে যা বাদীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি’।

মামলার বাদী রাকিব বলেন, আমি প্রতিকার চেয়ে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলায় তামিমার মাকেও আসামি করতাম। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে তাকে আসামি করিনি। হাজার হলেও আমি তাকে মা বলে ডেকেছি’।

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৭/৪৯৮ ও ৫০০ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

নিচে ধারাগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ননা দেয়া হলো-

ধারা : ৪৯৪। স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহকরণ

কোনো ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কা’/রা’/দ’/ণ্ডে ’দ/ণ্ডি’/ত’/ হবে এবং তদুপরি অর্থ দ’/ণ্ডে’/ও দ’/ণ্ডি’/ত’/ হবে।

ধারা : ৪৯৭। ব্যভিচার

কোনো ব্যক্তি যদি অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্যকোনো ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোননো ব্যক্তির সঙ্গে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌ’/০’ন’/স’/ঙ্গ’/ম করে যা নারী ’/ধ’/র্ষ’/ণে’/র’/ সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম ’/কা’/রা’/দ’/ণ্ডে’/ অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দ’/ণ্ডি’/ত’/ করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি ’/দু’/ষ্ক’/র্মে’/র’/ সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

ধারা : ৪৯৮। কোনো বিবাহিতা নারীকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধকরণ বা অপহরণ বা আটককরণ

কোনো ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সঙ্গে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ যৌ’/ন’/স’/ঙ্গ’/ম’/ করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অপহরণ বা প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায় বা অনুরূপ কোনো নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গোপন বা’ ’/আ’/ট’/ক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা : ৫০০। মানহানির শাস্তি

কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কা’/রা’/দ’/ণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দ’/ণ্ডে’/ই ’/দ’/ণ্ডি’/ত হবে।

এ দিকে তামিমার প্রথম স্বামী এবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আর ঘরে তুলবেন না তামিমাকে। বিশেষ করে তার সাথে তামিমা যে পরিমান ছলছাতুরি করেছেন তার কারনে তিনি আর বিশ্বাস করছেন না তাকে। এ দিকে নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে তিনি এখনো কোন ধরনের কথা বলেননি নাসির হোসেন। এবং পরবর্তিতে তিনি কি পদক্ষেপ নিবেন তা জানা যায়নি এখনো। এ নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি যোগাযোগ করেননি।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display